প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জির সৌজন্য সাক্ষাতে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে উভয়পক্ষ মতবিনিময় করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিশাল হলেও বাস্তব বাণিজ্যিক সংযোগ এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের সম্মিলিত জিডিপি প্রায় ৫৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের হার মাত্র এক শতাংশের কাছাকাছি, যা সম্ভাবনার তুলনায় অত্যন্ত কম। এই ব্যবধান কমাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়া উপকৃত হবে। বিশেষ করে ভুটানের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আগ্রহী।
জ্বালানি খাত নিয়ে আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর ও জলবিদ্যুৎ খাতে যৌথ বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বল্প দূরত্বে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা গেলে উভয় দেশই লাভবান হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, এই ধরনের প্রকল্প শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগকেও শক্তিশালী করবে।
ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি বাংলাদেশের নতুন বাণিজ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠ। তিনি জানান, ভুটান বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়।
তিনি বলেন, ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে ভৌগোলিক নৈকট্য বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। বুড়িমারি সীমান্ত থেকে ভুটানের দূরত্ব তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় স্থলপথে বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন সহজ ও লাভজনক হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ভুটানের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মেডিকেল কলেজগুলোতে ভুটানি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে নিজ দেশে ফিরে স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখছেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও আরও দৃঢ় হচ্ছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয়পক্ষই মত দেন যে, বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও কাঠামোগত ও কার্যকর করার মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন গতি আনা সম্ভব।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগ এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। ভুটান ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং ভুটানের মিনিস্টার কাউন্সিলর (ট্রেড) দাওয়া শেরিং উপস্থিত ছিলেন। তারা উভয় দেশের প্রশাসনিক ও নীতিগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতামত দেন।
সব মিলিয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভুটানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।