সীমান্ত হত্যা ৭৫ শতাংশ কমেছে: ডা. জাহেদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
সীমান্ত হত্যা ৭৫ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ও কূটনৈতিক উদ্যোগে নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে।

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত হত্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে পিআইডি’র সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য সীমান্ত হত্যা সম্পূর্ণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। এটি কেবল নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয় নয়, বরং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কারণে সীমান্ত পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কার্যক্রম আরও কার্যকর ও আধুনিক করা হয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়া গেছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গত দুই মাসে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে অপরাধী গ্রেফতারের হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান দমনে চলমান অভিযানে সফলতা ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় বড় ধরনের সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বিশেষ করে প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি তেল পাচার রোধ করা সম্ভব হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি।

মানবপাচার প্রতিরোধেও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি। সচেতনতা বৃদ্ধি, নজরদারি এবং আইনি প্রয়োগের ফলে এই খাতে প্রায় ২৫ শতাংশ ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সীমান্ত নজরদারি আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এতে করে অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়েছে। এতে করে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত হত্যা হ্রাস একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও এটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এর জন্য দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক কূটনৈতিক সংলাপ, আস্থা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তারা মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং সীমান্তবর্তী জনগণের জীবনমান উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিকতা—এই দুই দিক বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পূর্ণভাবে রোধ করা।

সব মিলিয়ে সীমান্ত হত্যা ৭৫ শতাংশ হ্রাস পাওয়া দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে ধারাবাহিক উদ্যোগ ও আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত