হামে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, উদ্বেগ বাড়ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৯ শিশুর

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই সময়সীমায় নতুন করে সংক্রমণ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭৩ জনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৭৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এতে করে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গ শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬২ জনে। পরিস্থিতি ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে চাপ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৬৩ জন। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫৬ জনে। এটি রোগটির বিস্তার ও সংক্রমণের মাত্রা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক হামের কারণে আরও ২২৬ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৯০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ৯৭৩ জন রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৩৪৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ১৯ হাজার ৯৯১ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে বলে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ সাধারণত টিকা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে টিকা গ্রহণে অনীহা, জনসচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবায় কিছু ঘাটতি এই ধরনের রোগের বিস্তার বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় বিষয়টি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জ্বর, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তারা মনে করেন, হামের বিস্তার রোধে সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত