হাইকোর্টের আদেশ বহাল খায়রুল হকের জামিনে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৫ বার
খায়রুল হক জামিন বহাল

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিচারাঙ্গনে আলোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মোট পাঁচটি পৃথক মামলায় তার জামিন নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সর্বোচ্চ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেয়। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন।

আদালতের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আইন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিলের জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল। তবে শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ না করে পূর্বের জামিন আদেশ বহাল রাখে। এর ফলে পাঁচটি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আইনগতভাবে কার্যকর থাকছে।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী এবং অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। শুনানিতে তারা যুক্তি দেন যে, মামলাগুলোর অভিযোগগুলো বিচারাধীন এবং প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত অবস্থায় দীর্ঘ সময় কারাবন্দি রাখার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন বাতিলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়। তবে আদালত শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেয়।

আদালত আদেশের পর অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু জানান, যদিও পাঁচটি মামলায় জামিন বহাল রয়েছে, তবে আরও দুটি পৃথক মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হওয়ায় তিনি এখনই কারামুক্ত হতে পারছেন না। ফলে তার আইনি অবস্থান এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে নির্ধারিত হয়নি।

এই মামলাগুলোর পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগ এবং দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা একটি পৃথক মামলা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত রায় সংক্রান্ত মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, বিচারপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছিল। এই অভিযোগ রাজনৈতিক ও আইনগত অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একইভাবে দুদকের মামলায় প্লট জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।

হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ৮ মার্চ চারটি মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেয়। পরে ১১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায়ও তিনি জামিন পান। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এসব জামিনের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে, যার শুনানি শেষে মঙ্গলবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ হওয়া মানে এই নয় যে মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। বরং বিচার প্রক্রিয়া চলবে এবং পরবর্তী শুনানিগুলোতে মামলার গুণগত দিক বিবেচনা করা হবে।

খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় তার আইনি জটিলতা এখনো বহাল রয়েছে। আইনজীবীদের মতে, জামিন বহাল থাকা মানে সাময়িকভাবে মুক্তির সুযোগ, কিন্তু বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে না।

উল্লেখ্য, এবিএম খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার কার্যকাল শুরু হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। অবসরের পর তিনি তিন দফায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার বিচারিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় এবং পরবর্তী বিতর্কিত ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ও আইনগত পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় তাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্ত বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াই চলমান থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের মামলায় আদালতের প্রতিটি সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আইনব্যবস্থা ও বিচারিক নীতির ওপরও প্রভাব ফেলে। ফলে খায়রুল হকের মামলাগুলো ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত