জাপানে বিপুল কর্মী পাঠাবে বাংলাদেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
জাপানে বিপুল কর্মী পাঠানোর বড় সুযোগ বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাপানের ক্রমবর্ধমান দক্ষ জনবল সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী ক্যাটাগরিতে জাপানের ১৬টি খাতে জনশক্তি পাঠাতে নীতিগত ও কারিগরি পর্যায়ে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশ থেকে কয়েক লাখ কর্মীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জাপান সরকার ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে এই ১৬টি খাতে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই বিশাল চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সঠিক প্রস্তুতি ও দক্ষ জনবল তৈরি করা গেলে এই চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে বাংলাদেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি কর্মী জাপানে পাঠানো সম্ভব হতে পারে। এটি দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ইতিহাসে একটি বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী ক্যাটাগরির মাত্র ছয়টি খাতে কর্মী পাঠাতে সক্ষম ছিল। তবে বর্তমানে সরকার সব ১৬টি খাতেই দক্ষ কর্মী প্রস্তুত ও পাঠানোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে করে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান খাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও জাপান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাপান বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি শ্রমবাজার। সেখানে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তার মতে, যদি বাংলাদেশ দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারে, তবে এই বাজার থেকে বড় ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, জাপানে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ভাষা দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাপানি ভাষা শেখা এবং তাদের কর্মসংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকলে কর্মীরা সেখানে সহজে মানিয়ে নিতে পারবে। এতে বাংলাদেশের কর্মীদের প্রতি আস্থা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাষা প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং জাপানের শ্রমবাজারের উপযোগী করে জনশক্তি প্রস্তুত করা।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাপানের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, ব্যাংকিং চ্যানেলে ফি পরিশোধ এবং আগের জটিল নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

উপসচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল বলেন, জাপানের ক্রমবর্ধমান শ্রম সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি দক্ষ কর্মী তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জনবল তৈরি করা যায়।

তিনি আরও জানান, জাপান সরকার ইতোমধ্যে দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক কর্মসংস্থান এবং নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী ক্যাটাগরিতে বিপুল সংখ্যক বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে প্রায় এক কোটি দশ লাখ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে দক্ষতা, ভাষা জ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।

তারা মনে করেন, সরকার যদি পরিকল্পিতভাবে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারে, তাহলে শুধু জাপান নয়, অন্যান্য উন্নত দেশেও বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সব মিলিয়ে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উদ্যোগ সফল হলে এটি দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত