প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ। তিনি বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই দুই দেশ একে অপরের পাশে থাকবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেজা তালাই-নিকের সঙ্গে এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বৈঠকটি ঘিরে দুই দেশের সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানায়, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে সামরিক সমন্বয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্ক দিন দিন আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তি শক্তিশালী হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ বা সংকট পরিস্থিতিতে রাশিয়া ইরানের পাশে থাকবে। একইভাবে ইরানও রাশিয়ার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেজা তালাই-নিকও দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একে অপরের অবস্থানকে সমর্থন করে আসছে, যা তাদের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘোষণা বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরেশিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ক্ষমতার ভারসাম্যে এই সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করার অভিযোগ রাশিয়ার বিরুদ্ধে উঠেছে। এর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য এবং স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত স্বীকার করেনি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের এই ঘনিষ্ঠতা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে, দুই দেশের পক্ষ থেকেই চলমান বৈশ্বিক সংকট ও সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা মনে করে, সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরানের এই অবস্থান তাদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার একটি অংশ। দুই দেশই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মধ্যে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে রাশিয়া ও ইরানের এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা বৈশ্বিক কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।