শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং অভিযোগে প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া ও অর্থপাচারের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং কোনো কর্তৃপক্ষই চূড়ান্তভাবে তা প্রমাণিত বলে ঘোষণা করেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাথমিক ব্যয়ের তুলনায় প্রকল্প ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একই সক্ষমতার অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তুলনামূলকভাবে অনেক কম ব্যয়ে নির্মিত হলেও রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি ধরা হয়েছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পেছনে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির সময় কিছু মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং বিদেশি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি ঘটতে পারে। প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক রাজনীতিক টিউলিপ সিদ্দিকের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বা তাদের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম এই অভিযোগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করেছে এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তবে কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশি ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে জটিলতার কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে তারা জানান।

অভিযোগ রয়েছে, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হলেও আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতার কারণে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে। দুদক সূত্র বলছে, চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে আরও সময় লাগবে।

এই প্রকল্প নিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্পের ব্যয় কাঠামো ও কিছু নথি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বলেছে, যেকোনো বড় প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটির মতে, রূপপুর প্রকল্পের মতো মেগা প্রকল্পে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল হওয়ায় এর ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়। তবে ব্যয়ের তুলনায় প্রকৃত খরচ ও ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়।

বর্তমানে রূপপুর প্রকল্প থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ইউনিট থেকে শিগগিরই আংশিক উৎপাদন শুরু হতে পারে।

সব মিলিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি শুধু তদন্তাধীন হিসেবেই বিবেচিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলগুলো জানিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত