কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক উন্নয়নে আশ্বাস সড়কমন্ত্রীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
কুমিল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক উন্নয়ন

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাতে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, মানুষের দুর্ভোগ কমানোই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং সেই লক্ষ্যেই মহাসড়কটির সংস্কার, প্রশস্তীকরণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এই আশ্বাস দেন। তিনি জানান, কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে সরাইল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দেশের পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের মধ্যে সড়ক যোগাযোগে এই মহাসড়ক প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহনের চাপ বহন করছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কটির চার লেনে উন্নীতকরণের বৃহৎ প্রকল্পটি প্রথমে বৈদেশিক অর্থায়নের আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে সেই অর্থায়ন প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। তারপরও সরকার বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে এবং উন্নয়ন কাজ যাতে থেমে না যায়, সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন অংশে সংস্কার ও প্রশস্তীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৮২ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সরাইল পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সেখানে ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন রাখা হবে, যা সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং যানজট কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়ক দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এই পথে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও বিভিন্ন ধরনের ছোট যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের অনেক অংশে ভাঙাচোরা অবস্থা, সরু রাস্তা এবং যানজটের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ও দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মহাসড়কটির দ্রুত উন্নয়ন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, মহাসড়কের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ হিসেবে চিহ্নিত দেবিদ্বার, কংশনগর ও ভিংলাবাড়ী এলাকায় মোট ৮০৪ মিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স কর্মসূচির আওতায় ময়নামতি, ফুলগাছতলা, কোম্পানিগঞ্জ, কাঠেরপুল ও কুটিচৌমুহনী এলাকায় আরও প্রায় ১ হাজার ৮৪৫ মিটার সড়ক প্রশস্ত ও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব কাজের দরপত্র মূল্যায়নের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কুমিল্লা থেকে দেবিদ্বার পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক ৩৪ ফুটে প্রশস্ত করার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

সড়কমন্ত্রী জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং মহাসড়কের চূড়ান্ত নকশা প্রস্তুতের কাজও চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে শুধু যাতায়াত ব্যবস্থাই উন্নত হবে না, বরং দেশের পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়ক উন্নয়ন শুধু একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়, বরং এটি দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এই মহাসড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে সড়কটির উন্নয়ন হলে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং যাতায়াত আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের খারাপ অবস্থার কারণে প্রতিদিনই তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষাকালে অনেক স্থানে পানি জমে যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আবার যানজটের কারণে যাত্রী ও পরিবহন চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। তাই উন্নয়ন কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মহাসড়কগুলোকে আধুনিক ও নিরাপদ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। শুধু সংস্কার নয়, যানবাহনের চাপ বিবেচনায় সড়ক প্রশস্তকরণ এবং আলাদা লেন নির্মাণের মতো উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষ। কারণ এই মহাসড়কের উন্নয়ন শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তনই আনবে না, বরং জনদুর্ভোগ কমিয়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত