প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হলো ভোজ্যতেলের দাম। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯ টাকা। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৭৯ টাকা। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে ভোজ্যতেলের মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই তথ্য জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ছে। সে কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম পূর্বে প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা ছিল, যা এখন ১৯৯ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন তেলের দামও পুনর্নির্ধারণ করে ১৭৯ টাকা করা হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খরচে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ওঠানামা করায় দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। আমদানি নির্ভরতার কারণে ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল রাখা সবসময়ই একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। এ কারণে প্রায়ই মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় বলে তারা মনে করেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের দাম, আমদানি খরচ এবং শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ ছাড়া উপায় থাকে না। তবে তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার যদি সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও স্থিতিশীলতা আনতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা। তাদের মতে, দাম বাড়ার খবরে অনেক ক্রেতা আগেভাগে তেল কিনে রাখার প্রবণতা দেখাচ্ছেন, যা বাজারে সাময়িক চাহিদা বৃদ্ধি করছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোজ্যতেলের বাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং অযৌক্তিক মজুত বা মূল্যবৃদ্ধি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ বাড়ে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব পড়ে। তারা বাজার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা থাকলেও দেশের বাজারে যেন অযৌক্তিকভাবে দাম বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তারা আরও বলছে, ভোজ্যতেলের মতো পণ্যে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বর্তমানে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও নতুন দামের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দাম বৃদ্ধি অল্প হলেও এটি ধারাবাহিকভাবে বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
সব মিলিয়ে, ভোজ্যতেলের নতুন দামের ঘোষণায় বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হবে সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রেখে দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যটি নিশ্চিত করা।