শেয়ারবাজার সূচক বৃদ্ধি তবে লেনদেন কমেছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
শেয়ারবাজার সূচক বৃদ্ধি তবে লেনদেন কমেছে

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের শেয়ারবাজারে বুধবারের কার্যদিবসে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও সামগ্রিক লেনদেনে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সূচকের ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার আংশিক প্রতিফলন হলেও লেনদেন কমে যাওয়ায় বাজারে সতর্ক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। একই সময়ে ১৬৭টির দর কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এই দরবৃদ্ধির ফলে দিনের শেষে প্রধান সূচকগুলোতে সামান্য হলেও ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা গেছে।

দিনশেষে ডিএসইএক্স সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে। শরিয়া সূচক ডিএসইএস ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সূচকের এই ধীরগতির বৃদ্ধি বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিলেও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এখনও দুর্বল।

তবে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে লেনদেনের পতন। বুধবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৮৮৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা কম। মঙ্গলবার লেনদেন ছিল ১ হাজার ২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পতন বাজারে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিনের লেনদেনে ব্যাংক খাত সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। এই খাতের শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি সাধারণ বীমা ও বস্ত্র খাতও লেনদেনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে কিছু খাতে দুর্বল পারফরম্যান্স বাজারের সার্বিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলেছে।

খাতভিত্তিক রিটার্ন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক, সাধারণ বীমা এবং বস্ত্র খাতে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। তবে ভ্রমণ, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতে দরপতন বেশি হয়েছে, যা সামগ্রিক বাজার মনোভাবকে কিছুটা চাপের মধ্যে রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এই ধরনের ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও লেনদেন কমে যাওয়ার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রতিফলন। অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমানে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অপেক্ষা করছেন, বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এখানে লেনদেন হওয়া ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯০টির দর বেড়েছে, ৮৮টির কমেছে এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট, যা তুলনামূলকভাবে সীমিত লেনদেন কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে সময় লাগছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজারে সূচকের সামান্য উন্নতি ইতিবাচক হলেও তা এখনও শক্তিশালী প্রবণতায় রূপ নেয়নি। বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে বিনিয়োগবান্ধব নীতি, আস্থা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তারা আরও মনে করেন, ব্যাংক ও বীমা খাতের মতো মৌলভিত্তি শক্ত খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারকে কিছুটা ধরে রাখছে। তবে প্রযুক্তি ও সেবা খাতে দুর্বল পারফরম্যান্স সামগ্রিক গতি কমিয়ে দিচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজার এক ধরনের অপেক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সুদের হার এবং করপোরেট আয় ঘোষণার দিকে নজর রাখছেন।

সব মিলিয়ে বুধবারের শেয়ারবাজারে সূচকের সামান্য উত্থান থাকলেও লেনদেনের বড় পতন বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। আগামী দিনগুলোতে বাজার কোন দিকে অগ্রসর হয়, তা নির্ভর করবে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং নতুন বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত