প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে রয়েছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজবকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পারিবারিক বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে মির্জা আব্বাসের অবস্থা স্থিতিশীল এবং আগের তুলনায় অনেকটাই উন্নত। তিনি এখন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন এবং ধাপে ধাপে শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পাচ্ছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে এখনো পূর্ণ বিশ্রাম ও নিয়মিত ফিজিওথেরাপির মধ্যে রাখা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্বাস্থ্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনসহ তার সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। এই বিষয়ে আফরোজা আব্বাস গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “মির্জা আব্বাস আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন। যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” তিনি আরও জানান, চিকিৎসার ধারা ইতিবাচক এবং খুব শিগগিরই পরিবারের পক্ষ থেকে আরও স্বস্তিদায়ক খবর পাওয়া যাবে।
চিকিৎসা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মার্চ রাজধানীতে ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। তিনি তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, এরপর দ্রুত তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা চলতে থাকে। চিকিৎসকরা জানান, প্রথম দিকে তার অবস্থা সংকটাপন্ন থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি সাড়া দিতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি বিছানায় উঠে বসতে সক্ষম হন এবং সীমিতভাবে কথা বলতেও পারছিলেন, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে পরবর্তী পুনর্বাসন পর্যায়ের জন্য মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। ১৪ এপ্রিল তাকে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়, যেখানে মূলত ফিজিওথেরাপি ও ধীরে ধীরে শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। চিকিৎসকদের মতে, এই পর্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী থাকার কারণে শরীরের পেশি ও স্নায়বিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার প্রয়োজন হয়।
বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকরা মনে করছেন, যথাযথ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে তিনি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাবেন। তবে এ জন্য আরও কিছু সময় লাগবে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে মির্জা আব্বাস একটি পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি সাবেক মন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার অসুস্থতার খবরে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকেই তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানান। রাজনৈতিক সহকর্মীদের মতে, মির্জা আব্বাস দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন, তাই তার অনুপস্থিতি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে স্থিতিশীল এবং চিকিৎসা নির্দেশনা মেনে চলছেন। পরিবারের সদস্যরা তার পাশে থেকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করছেন। তারা দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া চেয়েছেন।
চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ক্ষেত্রে ধৈর্য ও সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে ফিরে আসে এবং প্রতিটি ধাপই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মির্জা আব্বাসের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা আব্বাসের সুস্থতা শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, বরং বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তার মতো অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয় উপস্থিতি দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত ও আন্দোলন-সংগঠনে ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মির্জা আব্বাস ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী যে, আরও কিছু সময়ের মধ্যে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন। তবে পুরোপুরি সুস্থতা অর্জনের জন্য তাকে এখনো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হবে।