সংবিধান সংশোধনে সংসদীয় বিশেষ কমিটি প্রস্তাব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব সরকারি দলের

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত ও অংশগ্রহণমূলক করতে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকারি দল। ১৭ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিতে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ জন এবং বিরোধী দল থেকে ৫ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করা হলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বুধবার সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতেই আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ফ্লোর নিয়ে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে সংবিধান সংশোধনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা যায়।

তিনি বলেন, প্রচলিত সাংবিধানিক চর্চাকে বজায় রেখে একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হলে সংবিধান সংশোধনের কাজ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। রুল ২৬৬ অনুযায়ী ইতোমধ্যে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

প্রস্তাবিত তালিকায় বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির পাশাপাশি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সংসদকে জানানো হয়। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় বর্তমানে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল থেকে পাঁচজন সদস্য রয়েছেন।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পাঁচজন সদস্যের নাম চূড়ান্ত করে দিলে কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনের মধ্যেই তালিকা সম্পূর্ণ করা গেলে ‘জুলাই সনদ’ এবং জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে দ্রুত সংবিধান সংশোধনের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

এ সময় স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, ১৭ সদস্যবিশিষ্ট এই বিশেষ কমিটি গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা দেশের সাংবিধানিক অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করবে।

এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন। তবে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের মৌলিক অবস্থানগত পার্থক্য রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার যেখানে ‘সংশোধন’ বা এমেন্ডমেন্টের কথা বলছে, সেখানে বিরোধী দল সংবিধানের ‘পূর্ণাঙ্গ সংস্কার’ বা রিফর্মের দাবি তুলছে।

তার মতে, এই ধারণাগত পার্থক্যের কারণে বর্তমান অধিবেশনে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা সদস্য তালিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আরও আলোচনা প্রয়োজন এবং পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংশোধন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় ও আস্থার সম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।

আইনমন্ত্রী পরবর্তীতে বিরোধী দলের অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে বলেন, সরকার সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চায়। প্রয়োজনে পরবর্তী সংসদ অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও সরকার প্রস্তুত আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এই প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়ো না করে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়াই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত হবে, যাতে কাজের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় থাকে।

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে সংবিধান সংশোধনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে। এই প্রক্রিয়ায় সকল রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সংসদে উত্থাপিত এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ইতিবাচক সংলাপের সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন সকলের দৃষ্টি রয়েছে বিরোধী দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের দিকে, যেখানে এই প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা আরও স্পষ্ট হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত