প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভোলার সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সংসদে কিছু সময়ের জন্য হট্টগোলের পরিবেশ তৈরি হয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ তার বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের কিছু অংশকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলীয় সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং সংসদে হট্টগোল শুরু হয়।
পরিস্থিতির মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দিতে উঠে বলেন, সংসদে তার নাম ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এ ধরনের মন্তব্যের উৎস ও প্রমাণ স্পষ্ট করতে হবে।
তিনি বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো বক্তব্য বা রেফারেন্স দিলে তা অবশ্যই সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তাকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর ব্যাখ্যা দিতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, তিনি সাধারণত এমন রেকলেস বা যাচাইবিহীন বক্তব্য দেন না এবং তার নাম ব্যবহার করে কোনো বক্তব্য প্রচার করা হলে তার প্রমাণ থাকা জরুরি।
এরপর ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ পুনরায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, তার কাছে কিছু নথি রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট বক্তব্যের উল্লেখ আছে। তিনি দাবি করেন, এসব তথ্য সংসদে আলোচ্য বিষয়ে প্রাসঙ্গিক।
এই পর্যায়ে সংসদে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয় এবং বিরোধী দলের কিছু সদস্য প্রতিবাদ শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল হস্তক্ষেপ করেন এবং সদস্যদের নিজ নিজ আসনে ফিরে গিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদে প্রত্যেক সদস্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে, তবে তা শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উত্তেজনাকর বক্তব্য সংসদীয় পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পরবর্তীতে ব্যারিস্টার পার্থ তার বক্তব্যে জানান, সংসদীয় সহকর্মীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, তবে সেটি আলোচনা ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তিনি বলেন, তিনি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে চাননি, বরং তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দিয়েছেন।
অন্যদিকে ডা. শফিকুর রহমান পুনরায় বলেন, সংসদে যেকোনো বক্তব্যের ক্ষেত্রে তথ্যের উৎস ও যথার্থতা স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। তিনি তার অবস্থান থেকে সরাসরি কোনো বিতর্কে না গিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সংসদে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ও হট্টগোল তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংসদীয় কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চলতে শুরু করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদে এ ধরনের বাকবিতণ্ডা নতুন নয়, তবে দায়িত্বশীল বক্তব্য ও তথ্যভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। তারা মনে করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকলেও তা শালীনতার মধ্যে থাকা উচিত।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাটি সংসদে রাজনৈতিক বিতর্কের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ব্যক্তিগত মন্তব্য ও তথ্যের ব্যাখ্যা নিয়ে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়।