প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নারী, স্মৃতি এবং মহাবিশ্ব—এই ত্রিমাত্রিক সত্তার আবেগ ও অভিজ্ঞতাকে চিত্রভাষায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে চিত্রশিল্পী লিটন কর তার নতুন একক চিত্রপ্রদর্শনীতে হাজির করেছেন ২৫টি ভিন্ন ভিন্ন বিশাল তেলচিত্র। প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘নারী, মহাবিশ্ব–তার অন্তহীন অসীমতা’, যা শুধু একটি থিম নয়, বরং শিল্পীর দীর্ঘ সৃজনপরিক্রমার অন্তর্লীন অন্বেষণের প্রকাশ।
চিত্রগুলোতে নারীকে উপস্থাপন করা হয়েছে শুধুমাত্র একটি অবয়ব হিসেবে নয়, বরং এক অতলান্তিক আত্মিকতা, প্রাচীন স্মৃতির উত্তরাধিকার ও মহাজাগতিক শক্তির এক প্রতীকি রূপ হিসেবে। ক্যানভাসের প্রতিটি রেখায় ফুটে উঠেছে নারীজীবনের সহিষ্ণুতা, সৌন্দর্য এবং মহাবিশ্বের সঙ্গে তার নিগূঢ় সংলাপ। শিল্পীর থিয়েটার ও চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তার কাজগুলোকে করে তুলেছে একেকটি দৃশ্যভাষ্য, যেখানে গল্প বলার নিরীক্ষাধর্মী কৌশল মিশে আছে গভীর সমাজমনস্তত্ত্ব ও সাংস্কৃতিক ব্যঞ্জনায়।
প্রদর্শনীর আয়োজনে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে লিটনের দীর্ঘ চারুশিল্পচর্চার অভিজ্ঞতা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শিক্ষা গ্রহণের পর, তিনি তিন দশকের বেশি সময় ধরে চিত্রকলা ও সৃজনশীল চর্চায় সক্রিয়। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘শেড’ ও ‘ইটালিক’ নামক দুটি সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান, যেগুলো চলচ্চিত্র, গ্রাফিক ডিজাইন ও মিডিয়া প্রযোজনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন চিত্রশিল্পের গভীরে প্রবেশ করেছেন, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিল্পের মেলবন্ধনও ঘটিয়েছেন।
এই প্রদর্শনীর একটি বিশেষ আকর্ষণ হলো শিল্পীর নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আই সি ইউ’, যা ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী দিনেই এই চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী হয়েছে এবং দর্শকদের আগ্রহ বিবেচনায় এটি আবারও প্রদর্শিত হবে সমাপনী দিনে—২৬ জুলাই বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে।
প্রদর্শনীটি ১৮ জুলাই শুরু হয়েছে এবং চলবে ২৬ জুলাই পর্যন্ত। দর্শনার্থীদের জন্য এটি খোলা থাকছে সোমবার থেকে শনিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় এদিন গ্যালারি বন্ধ থাকবে।
সমসাময়িক বাংলাদেশি চিত্রকলায় লিটন করের এই আয়োজন একটি অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ক্যানভাস হয়ে উঠেছে আত্মার আয়না এবং নারীর বহুমাত্রিক রূপান্তর, স্বপ্ন ও বাস্তবতার এক গভীর সম্মিলন। দর্শনার্থীরা এখানে এসে শুধু একটি প্রদর্শনী দেখছেন না, তারা প্রবেশ করছেন এক মহাকাব্যিক শিল্পযাত্রায়—যেখানে নারী ও মহাবিশ্ব একাকার হয়ে ওঠে।