সর্বশেষ :

টিউলিপের ফ্ল্যাট মামলা শুনানি পিছিয়েছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৩৪ বার
টিউলিপের ফ্ল্যাট মামলা শুনানি পিছিয়েছে

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা মামলায় শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। আদালত আগামী ২৮ জুন নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

বুধবার (৬ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানি নির্ধারিত ছিল। তবে একই সময়ে আদালত অন্য মামলার কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় এ মামলার শুনানি গ্রহণ সম্ভব হয়নি। ফলে বিচারক পরবর্তী তারিখ হিসেবে ২৮ জুন নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম।

এই মামলাটি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এবং আরও দুইজন ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট দখল করেন এবং পরে তা রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। ফ্ল্যাটটি গুলশানের অন্যতম অভিজাত এলাকায় অবস্থিত, যা নিয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ফ্ল্যাটটি নিজেদের নামে নেন। ফ্ল্যাটটির অবস্থান গুলশান-২ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়, যার ঠিকানা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হলেও এটি রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকার মধ্যেই পড়ে।

মামলাটির সূত্রপাত হয় গত বছরের ১৫ এপ্রিল, যখন দুদকের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা ও অন্যান্যরা মিলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফ্ল্যাটটি দখল ও রেজিস্ট্রি করেন, যা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের পরিপন্থী।

পরবর্তীতে মামলার তদন্ত চলাকালে আসামি শাহ মো. খসরুজ্জামান হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এবং তদন্ত স্থগিতের আবেদন জানান। হাইকোর্ট তখন তিন মাসের জন্য তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করেন। যদিও পরবর্তীতে চেম্বার আদালতে বিষয়টি গেলে দুদক কোনো স্থগিতাদেশ না পাওয়ায় তদন্ত পুনরায় শুরু হয়।

তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর দুদক দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ অনুযায়ী অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

মামলার অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্টারপোলের মাধ্যমে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করে।

পরবর্তীতে ৮ মার্চ বিজি প্রেস থেকে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেট প্রকাশের পর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হলে ৮ এপ্রিল ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত থেকে এটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ স্থানান্তর করা হয়। একই সঙ্গে ১৬ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি এবং পরবর্তীতে আজকের তারিখেও শুনানি পিছিয়ে যায়।

এদিকে এর আগেও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলায় দুই বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এসব রায়ের পর তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো নতুন করে আলোচনায় আসে।

মামলাটি ঘিরে আইন অঙ্গনে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চপ্রোফাইল এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল, যা ধাপে ধাপে আদালতের মাধ্যমে অগ্রসর হচ্ছে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, তারা মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির পক্ষে কাজ করছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী শুনানিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে। তবে আদালতের ব্যস্ততা এবং অন্যান্য মামলার চাপের কারণে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে মামলার পরবর্তী তারিখ ২৮ জুন নির্ধারিত হওয়ায় এখন সবার নজর সেই দিনের দিকে। আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ওই দিন মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে, যেখানে অভিযোগ গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সব মিলিয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চলমান এই ফ্ল্যাট জালিয়াতি মামলা দেশের বিচারব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠেছে। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন সবার নজরে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত