সর্বশেষ :
আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি আরসিবি-গুজরাত পিএসজির শিরোপা অক্ষুণ্ণ, আর্সেনালের টাইব্রেকার দুঃখ ইরান যুদ্ধের সুবর্ণ সুযোগে তুরস্কে এরদোয়ানের ক্ষমতা সুসংহতকরণের গল্প চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা জাপানের ইউরোপসেরা পিএসজির শিরোপা উদযাপনে ফ্রান্সে রণক্ষেত্র দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জামায়াত-এনসিপির অর্থের উৎস নিয়ে রাশেদ খাঁনের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনসাসা, ঢাকার বাতাস এখনো অস্বাস্থ্যকর

তরুণদের তামাকমুক্ত রাখতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বজুড়ে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রতি বছরই পালিত হয় বিশেষ দিবস। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ৩১ মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখে তামাকের ভয়াবহ ছোবল থেকে দেশের জনগণকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যাপক সচেতনতা তৈরিতে প্রশাসন, নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বোপরি গণমাধ্যমগুলোকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। যুবসমাজকে তামাকের মরণনেশা থেকে দূরে রাখা না গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি থমকে যেতে পারে বলে তিনি তার বাণীতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

চলতি বছরের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’। এই প্রতিপাদ্যটিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি তার বাণীতে বলেন যে, তামাক চাষ থেকে শুরু করে এর প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চূড়ান্তভাবে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্য, চারপাশের পরিবেশ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এক বিরাট অভিশাপ।

তামাকের নিয়মিত ব্যবহার মানবদেহে ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসসহ নানা ধরনের জটিল ও প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তামাকের এই নীরব ঘাতক রূপটি প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের জীবন প্রদীপ কেড়ে নিচ্ছে, যা কোনোভাবেই একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য কাম্য হতে পারে না।

দেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর তামাকের যে ভয়াবহ প্রভাব রয়েছে, তার একটি নির্মম পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২ লাখ মানুষ অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই অকাল মৃত্যু কেবল একটি সংখ্যার ক্ষতি নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকে একেকটি পরিবারের কান্না ও চরম বিপর্যয়। তামাকের কারণে যখন কোনো পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম মানুষটি দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ভুগে মারা যান, তখন পুরো পরিবারটি এক নিমেষে অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। আর এভাবে অসংখ্য কর্মক্ষম মানুষের অকাল মৃত্যু ও অসুস্থতা জাতীয় উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অগ্রগতির ধারাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি তরুণদের ধূমপানে আসক্ত হওয়ার মূল কারণটি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, তামাক ও তামাকজাত পণ্য উৎপাদন এবং বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসার স্বার্থে অত্যন্ত চতুরতার আশ্রয় নেয়। তারা বিভিন্ন ভ্রান্ত প্রলোভন ও আকর্ষণীয় প্রচারণার ফাঁদ পেতে তরুণ ও যুবসমাজকে ধূমপানের প্রতি আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। এই প্রচারণার বাহ্যিক চটকদার রূপের আড়ালে যে নিকোটিনের মরণফাঁদ রয়েছে, তা বুঝতে না পেরে অনেক তরুণ খুব সহজেই এতে জড়িয়ে পড়ছে। আরও আশঙ্কার কথা হলো, এই ধূমপানের হাত ধরেই পরবর্তীতে দেশের একটা বড় অংশের তরুণ প্রজন্ম মাদকের চরম অন্ধকার ও মরণ নেশায় তলিয়ে যাচ্ছে। এই সর্বনাশা চক্র থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও আইনি পথচলার কথা স্মরণ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ বহু আগে থেকেই কাজ করে আসছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল’ বা এফসিটিসি-তে স্বাক্ষর করেছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় দেশে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০৫’ প্রণয়ন করা হয়। এই আইনটি দেশে তামাক বিরোধী আন্দোলন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

আইনি কাঠামোর এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের বর্তমান সরকার সময়ের প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার সম্প্রতি ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংশোধন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন এই সংশোধিত আইনের মাধ্যমে তামাকের বিস্তার রোধে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তিনি গভীর আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন যে, এই নতুন সংশোধিত আইনের সঠিক বাস্তবায়ন এবং মাঠ পর্যায়ে এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তা তামাকের করাল গ্রাস থেকে দেশের অসহায় নারী, শিশু এবং দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে অত্যন্ত কার্যকরী ও যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

পরিশেষে রাষ্ট্রপতি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ উপহার দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তামাক ও ধূমপান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত দেশের সব বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানের সঠিক প্রতিপালন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সদা তৎপর থাকবে।

আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসন কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তামাকমুক্ত একটি সুস্থ সমাজ গঠনে রাষ্ট্রপতির এই সময়োচিত আহ্বান দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে এবং তামাকের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত