প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উত্তর ঢাকা শহরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কোরবানির পশু জবাইয়ের পর সৃষ্ট বিশাল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শতভাগ সফলতার পরিচয় দিয়েছে সংস্থাটি। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী তিন দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তার আওতাধীন এলাকাগুলো থেকে রেকর্ড পরিমাণ বর্জ্য সংগ্রহ করেছে।
এরপর অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সর্বমোট ৩২ হাজার ৬৬২ টন কোরবানির পশুর বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে নিয়ে চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং বা নিষ্কাশন করা হয়েছে। ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কৌশলের কারণেই এত দ্রুত এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বর্জ্য অপসারণের এই বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্জ্য অপসারণের মূল ও সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি সামলানো হয় ঈদের দিনেই। ঈদের দিন সকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত রেকর্ড ১৪ হাজার ৮১৪ টন কোরবানির পশুর বর্জ্য ও হাট-বাজারের আবর্জনা সংগ্রহ করে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়েছে। ঈদের দিন পশুর বর্জ্যের আধিক্য সবচেয়ে বেশি থাকা সত্ত্বেও পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও অলিগলি থেকে এগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়, যা নগরবাসীকে এক বড় ধরনের অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিয়েছে।
ঈদের মূল দিনের ধকল কাটিয়ে ওঠার পরও পরিচ্ছন্নতা অভিযান এক মুহূর্তের জন্যও ঝিমিয়ে পড়েনি। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ঈদের পরের দিনও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সমানতালে তাদের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আরও ৮ হাজার ৯৭৭ টন বর্জ্য সংগ্রহ করে ল্যান্ডফিলে নিষ্কাশন করা হয়। মূলত ঈদের প্রথম দিন যারা নানা কারণে কোরবানি দিতে পারেননি, তাদের পশুর বর্জ্য এবং আগের দিনের অবশিষ্ট আবর্জনাগুলো এই দিনে অপসারণ করা হয়। ফলে ঈদের দ্বিতীয় দিন শেষ হতেই ঢাকা দক্ষিণের প্রায় প্রতিটি এলাকা চেনা ও পরিচ্ছন্ন রূপে ফিরে আসতে শুরু করে।
বর্জ্য অপসারণের এই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল পরবর্তী দিনও। প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা দলগুলো নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও ৮ হাজার ৮৭১ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। সবমিলিয়ে তিন দিনের এই বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এখন পর্যন্ত মোট ২৮ হাজার ৬৬২ টন মূল কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করতে সক্ষম হয়েছে। ল্যান্ডফিলে বর্জ্য ফেলার পর সেখানে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে জীবানুনাশক এবং ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে, যাতে বর্ষার এই সময়ে চারপাশের পরিবেশে কোনো ধরনের দুর্গন্ধ বা রোগজীবাণু ছড়াতে না পারে।
কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা যেকোনো মেগাসিটির জন্যই একটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল কাজ। সামান্য অবহেলা বা বিলম্বের কারণে পুরো শহর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্গন্ধের কবলে পড়তে পারত। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিশেষ কন্ট্রোল রুম, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং হাজার হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মীর দিনরাত এক করে কাজ করার মানসিকতা এই কঠিন কাজটিকে সহজ করে তুলেছে। নগরবাসীকে একটি কর্দমাক্ত ও দুর্গন্ধমুক্ত ঈদ উপহার দিতে ডিএসসিসির এই ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। করপোরেট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই সাফল্য আগামী দিনেও ঢাকার পরিবেশ সুরক্ষায় অনন্য নজির হয়ে থাকবে।