ইতিহাসে নতুন রেকর্ড: ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৩ বার
ইতিহাসে নতুন রেকর্ড: ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদি

প্রকাশ: ২৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতের রাজনীতিতে আবারও ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫—এই দিনে মোদি এককভাবে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদে টানা ৪,০৭৮ দিন পূর্ণ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলেছেন প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীর একটানা ৪,০৭৭ দিন প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ডকে, এবং ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসে দ্বিতীয় দীর্ঘতম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্বের মাইলফলক অর্জন করেছেন।

এই ঐতিহাসিক তথ্য সামনে এসেছে ভারতের অন্যতম প্রধান গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জওহরলাল নেহরুর পরে নরেন্দ্র মোদি এখন ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় দীর্ঘতম সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী নেতা। নেহরু ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করেন, যদিও তার মেয়াদ একটানা ছিল না।

নরেন্দ্র মোদির এই রাজনৈতিক পথচলা শুধু সময়ের হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং তার রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য, দলীয় পরিচয় এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতার কারণেও তা ব্যতিক্রমী। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের মধ্যে মোদিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি কংগ্রেস-বহির্ভূত একজন নেতা হিসেবে টানা দুটি পূর্ণ মেয়াদ শেষ করে তৃতীয়বারের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ২০১৪ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৯ ও ২০২৪ সালে আরও দুইবার বিপুল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরেন তিনি।

এছাড়া নরেন্দ্র মোদি হচ্ছেন ভারতের ইতিহাসে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী, যিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী জন্মগ্রহণকারী, এবং একজন হিন্দিভাষী রাজ্যের বাইরে থেকে উঠে এসে দীর্ঘ সময় ধরে দেশ পরিচালনা করছেন। তিনি গুজরাট থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন এবং তার আগে টানা তিনবার রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন (২০০২, ২০০৭, ২০১২)। লোকসভা নির্বাচনে পরপর তিনবার (২০১৪, ২০১৯, ২০২৪) জয়লাভ করে তিনি মোট ছয়বার কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে সরাসরি নির্বাচনে জয় পান, যা ভারতে অতীতের কোনো প্রধানমন্ত্রী অর্জন করতে পারেননি।

মোদির এই দীর্ঘ রাজনৈতিক শাসনামল নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্য দিয়েও ভারতীয় রাজনীতিতে স্থায়িত্ব ও কর্তৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। একদিকে যেমন তিনি অর্থনৈতিক সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল ভারত ও বৈদেশিক কূটনীতিতে নজরকাড়া ভূমিকা রেখেছেন, অন্যদিকে তার সরকার সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান, বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে সমালোচনার মুখে পড়েছে।

তবে রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক, মোদির দীর্ঘ মেয়াদ ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায় হিসেবে গণ্য হবে—যেখানে একটি কংগ্রেস-বহির্ভূত দল ও নেতার হাতে কেন্দ্রীয় শাসন দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের পর থেকে এটি প্রথম ঘটনা, যখন কোনো প্রধানমন্ত্রী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় থাকলেন।

এই দীর্ঘ শাসনামল রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে এবং এটি নরেন্দ্র মোদির কর্মজীবনে একটি বিশাল অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই দীর্ঘ মেয়াদ কী ধরনের প্রভাব ফেলবে—তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে সন্দেহ নেই, ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য দিন হয়ে থাকল, যার কেন্দ্রে রয়েছেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত