৮ মে: আজকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রেট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ১৫ বার
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার হার

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তন দেখা যায়। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে ডলারসহ অন্যান্য মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনও ক্রমেই বাড়ছে, ফলে মুদ্রা বিনিময় হার জানা সাধারণ মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার (৮ মে) দেশের বাজারে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে, যা আমদানিকারক, প্রবাসী পরিবার এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান হারে মার্কিন ডলার (ইউএস ডলার) দাঁড়িয়েছে ১২২.৮৫ টাকায়, যা বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি রিয়াল ৩২.৭৭ টাকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৩৩.৪৭ টাকা, কাতারি রিয়াল ৩৩.৭৬ টাকা, কুয়েতি দিনার ৩৯৯.৬০ টাকা এবং বাহরাইনি দিনার ৩২৬.৮৪ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এসব মুদ্রা মূলত প্রবাসী আয় ও শ্রমবাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ান রিংগিত ৩১.৯৮ টাকা, সিঙ্গাপুর ডলার ৯৬.৮৬ টাকা এবং ব্রুনাই ডলার ৯৬.৭৯ টাকায় অবস্থান করছে। এ অঞ্চলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার শক্তিশালী হওয়ায় এই মুদ্রাগুলোর বিনিময় হার রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর প্রভাব ফেলে।

ইউরোপীয় বাজারে ইউরো ১৪৪.১৪ টাকা এবং ব্রিটিশ পাউন্ড ১৬৬.৬৪ টাকায় লেনদেন হচ্ছে, যা তুলনামূলকভাবে উচ্চমূল্যের মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ এই হার অনুযায়ী দেশে আসে।

এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার মধ্যে চীনা রেনমিনবি ১৮.০৫ টাকা, জাপানি ইয়েন ০.৭৭ টাকা, দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা ০.০৮ টাকা এবং ভারতীয় রুপি ১.৩০ টাকায় অবস্থান করছে। প্রতিবেশী দেশের মুদ্রা হিসেবে ভারতীয় রুপির বিনিময় হার বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

অন্যান্য মুদ্রার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৮.৬২ টাকা, কানাডিয়ান ডলার ৮৯.৮৬ টাকা, দক্ষিণ আফ্রিকান র‌্যান্ড ৭.৪৭ টাকা, তুর্কি লিরা ২.৭১ টাকা, মালদ্বীপিয়ান রুফিয়া ৭.৯৫ টাকা এবং লিবিয়ান দিনার ১৯.৩৭ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এছাড়া ইরাকি দিনার ০.০৯ টাকায় অবস্থান করছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক সুদের হার ডলারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিনের বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মুদ্রার দর নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। তবে খোলা বাজারে অনেক সময় ব্যাংক রেটের সঙ্গে কিছু পার্থক্য দেখা যায়, যা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রবাসী আয় পাঠানো পরিবারগুলোর জন্য মুদ্রার এই পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলে। ডলারের দাম বাড়লে প্রবাসী আয় তুলনামূলকভাবে বেশি টাকায় রূপান্তরিত হয়, যা পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে টাকার মান শক্তিশালী হলে আমদানিকারকরা সুবিধা পেলেও প্রবাসী আয় কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়ানো, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতিনির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, ৮ মে দেশের মুদ্রা বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার এই হার অর্থনীতির চলমান বাস্তবতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিনের এই পরিবর্তন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত