শনিবার নাটোরের কয়েক এলাকায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
শনিবার নাটোরের কয়েক এলাকায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কয়েকটি এলাকায় আগামীকাল শনিবার সকাল থেকে টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। নতুন ৩৩ কেভি লাইন নির্মাণ কাজের জন্য এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতে আরও নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জানায়, বনপাড়া গ্রিড উপকেন্দ্র এলাকায় নতুন ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার কারণে শনিবার সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সময় কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।

পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, সদর দপ্তরের অধীন বড়াইগ্রাম-১ উপকেন্দ্রের ১, ৪, ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ফিডারের আওতাধীন এলাকাগুলোতে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে বনপাড়া পৌরসভার আংশিক এলাকা এবং জোয়াড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ওইসব এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানাগুলো সাময়িকভাবে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থার মুখোমুখি হবে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের খবর প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু, বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ ব্যক্তি রয়েছেন, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি কিছুটা কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া অনলাইনভিত্তিক কাজ, ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যপণ্য এবং ছোট ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সাময়িক এই অসুবিধা ভবিষ্যতের উন্নত সেবার জন্য অত্যন্ত জরুরি। নতুন ৩৩ কেভি লাইন চালু হলে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা বাড়বে এবং লোড ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। একইসঙ্গে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যাও অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের অনেকে জানিয়েছেন, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বাজার ও ব্যবসাকেন্দ্রগুলোতে সাধারণত ক্রেতার উপস্থিতি বেশি থাকে। এই সময় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডাজাত খাবার, আইসক্রিম, ফাস্টফুড ও অনলাইন সেবাভিত্তিক ব্যবসাগুলো কিছুটা সমস্যায় পড়বে বলে মনে করছেন তারা।

অন্যদিকে শিক্ষা কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল ডিভাইস এবং ইন্টারনেটনির্ভর পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে অভিভাবকদের অনেকেই বলছেন, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কিছুটা সাময়িক ভোগান্তি মেনে নেওয়া যায়, যদি এর ফলে ভবিষ্যতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত হয়।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ অবকাঠামো আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই নতুন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা বাড়াতে এমন প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রিড ও উপকেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, গ্রিড সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে গেছে। তবে গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের প্রসারের কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। নাটোরের এই নতুন ৩৩ কেভি লাইন নির্মাণও সেই বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ বিভাগ সাধারণ গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বিকল্প ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক ও প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি আগেই চার্জ করে রাখার কথাও বলা হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, নির্ধারিত কাজ দ্রুত শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে আরও নির্ভরযোগ্য ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করাই এই কাজের মূল উদ্দেশ্য।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মনে করছেন, যদি উন্নয়ন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং ভবিষ্যতে লোডশেডিং কমে আসে, তাহলে এই সাময়িক দুর্ভোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। এখন সবাই অপেক্ষা করছেন কাজ দ্রুত শেষ হওয়ার এবং আবার স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সুবিধা ফিরে পাওয়ার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত