সেঞ্চুরির পর ফিরলেন শান্ত, হ্যাটট্রিক রেকর্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ১২ বার
সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক করে ফিরলেন শান্ত

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও নিজের ব্যাটিং দৃঢ়তার প্রমাণ দিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে দারুণ এক সেঞ্চুরি করে দলের ইনিংসকে স্থিতিশীল ভিত্তি এনে দেন তিনি। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে শুধু রানই করেননি, গড়েছেন এক অনন্য ধারাবাহিকতার রেকর্ড, যা অনেকটা “সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক” হিসেবেই আলোচনায় এসেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানি পেস আক্রমণ ছিল আগ্রাসী। নতুন বলের তীব্র গতির সামনে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও শান্ত দ্রুতই পরিস্থিতি সামলে নেন। একদিকে যখন উইকেটে নিয়মিত ব্যাটসম্যানরা সংগ্রাম করছিলেন, তখন শান্ত নিজের স্বাভাবিক ধৈর্য আর টেকনিক দিয়ে ইনিংস গড়তে থাকেন। তার সঙ্গে মুমিনুল হকের জুটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সেটি পৌঁছে যায় ১৭০ রানের বিশাল অংশীদারিত্বে।

এই জুটি যখন বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিত্তি দিচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে ইনিংসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত। শান্ত নিজের ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ধারাবাহিক উন্নতির আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সেঞ্চুরিটি ছিল তার সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ফর্মের অংশ। এর আগে শ্রীলঙ্কা সিরিজে গল টেস্টে টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এরপর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজেও তিন অঙ্কের ইনিংস খেলেছিলেন। এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারও সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাকে “সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক” আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

শান্ত যখন ক্রিজে আসেন, তখন পাকিস্তানি বোলাররা রীতিমতো আক্রমণাত্মক ছন্দে ছিলেন। বিশেষ করে নতুন বলে গতি ও সুইংয়ের মিশেলে তারা ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শান্ত শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেন। তার ব্যাটিং ছিল আত্মবিশ্বাসী এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও দাপুটে হয়ে ওঠে।

মাত্র ১২৯ বলেই তিনি সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান, যা টেস্ট ক্রিকেটে তার ইনিংসকে আরও বিশেষ করে তোলে। তার ব্যাটে ছিল সাবলীল স্ট্রোকপ্লে, সঠিক শট নির্বাচন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ধৈর্যের নিখুঁত মিশ্রণ। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি ছিল তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, যদিও এর আগে এই দলের বিপক্ষে পাঁচটি টেস্ট খেলেও তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি তিনি।

সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরের মুহূর্তেই অবশ্য নাটকীয়তা তৈরি হয়। পরের বলেই তিনি আউট হয়ে যান। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে চার মেরে সেঞ্চুরি উদযাপনের ঠিক পরের বলেই একটি ডেলিভারি তার প্যাডে আঘাত হানে। আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি, তবে পাকিস্তান রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং শান্তকে ফিরতে হয় সাজঘরে। দলের স্কোর তখন ২০১ রান।

তার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই চা বিরতির ঘোষণা আসে, ফলে ম্যাচ কিছু সময়ের জন্য থেমে যায়।

শান্তর এই ইনিংস শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে তার নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধের প্রতিচ্ছবি। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ব্যাট হাতে যে ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছেন, তা দলকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড এবং পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একের পর এক বড় ইনিংস খেলা তার উন্নতির ধারাকে আরও সুস্পষ্ট করেছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, শান্ত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন যেখানে তিনি শুধু ইনিংস গড়তে জানেন না, বরং ম্যাচের গতিপথও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। তার ব্যাটিংয়ে যে পরিপক্বতা দেখা যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ টেস্ট দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দলের ভেতরে তার নেতৃত্বও প্রশংসিত হচ্ছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে সমন্বয় তৈরিতে তিনি ভূমিকা রাখছেন বলেও মনে করা হচ্ছে। এই সেঞ্চুরি সেই নেতৃত্বেরই আরেকটি প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ইনিংসটি শান্তর ক্যারিয়ারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করল। সেঞ্চুরি করে ফিরলেও তার ব্যাটিং দর্শন এবং ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদে বড় আশার আলো জাগাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত