প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে। সর্বশেষ এমআরআই প্রতিবেদনে তার ঘাড় ও কোমরের একাধিক হাড়ে জটিলতা ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার পথে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার পর তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে দাবি করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) পলকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালতে করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পলকের এমআরআই পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট তারা হাতে পেয়েছেন।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এমআরআই প্রতিবেদনে পলকের কোমরের এল-২, এল-৩ এবং এল-৪ অংশে সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘাড়ের সি-৫/৬ এবং সি-৬/৭ ডিস্কেও জটিলতা শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই অংশগুলো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু ও চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত, ফলে এখানে সমস্যা দেখা দিলে দৈনন্দিন চলাফেরা ও শারীরিক স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই পলকের শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পলকের আগে থেকেই কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল, তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় তা আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে। গত শনিবার কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, পলক ঘাড় স্বাভাবিকভাবে নাড়াতে পারছিলেন না এবং ব্যথায় ভুগছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এমআরআই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে শারীরিক জটিলতা ধরা পড়লেও এখন পর্যন্ত যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, পলকের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হবে। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে তার সমর্থক ও অনুসারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে আইনগত প্রক্রিয়া ও ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতও সামনে আসছে।
উল্লেখ্য, জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার কারণে তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছেন।
এমআরআই প্রতিবেদনের এই তথ্য প্রকাশের পর তার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইনজীবী পক্ষ বলছে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বর্তমানে পলকের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি আইনি ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আরও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সাধারণভাবে বলছেন, ঘাড় ও কোমরের ডিস্কজনিত সমস্যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে তা দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে পলকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা এখন নজরে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের। তার চিকিৎসা সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।