প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই সংক্রান্ত নতুন কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গরু, মহিষসহ বিভিন্ন পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে এখন থেকে কঠোর নিয়ম মানতে হবে এবং নির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না।
প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের দেওয়া স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না। এই সনদে নিশ্চিত করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট পশুটি জবাইয়ের উপযুক্ত এবং তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, পশুর বয়স নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে গণ্য হবে। যদি কোনো পশুর বয়স নির্দিষ্ট সীমার নিচে থাকে অথবা সেটি প্রজনন কিংবা কাজের জন্য উপযুক্ত থাকে, তবে তাকে জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, গুরুতর অসুস্থতা, অক্ষমতা বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত পশুর ক্ষেত্রেই জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পশু জবাই শুধুমাত্র নির্ধারিত কসাইখানা বা প্রশাসন অনুমোদিত স্থানে করা যাবে। জনসমাগমস্থল বা খোলা জায়গায় পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই সনদ প্রদানের দায়িত্ব স্থানীয় পৌরসভা ও পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সরকারি পশু চিকিৎসকদের ওপর থাকবে। কোনো পক্ষ সনদ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে আপিল করতে পারবেন।
এই নির্দেশনার ফলে রাজ্যের মাংস ব্যবসায়ী ও পশু পালনের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়তে পারে এবং ছোট ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, পশু কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং অস্বাস্থ্যকর জবাই প্রক্রিয়া বন্ধ করাই এই বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হলে পশু জবাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসতে পারে, তবে এর বাস্তবায়নে সঠিক তদারকি না থাকলে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই নির্দেশনা নিয়ে বিভিন্ন মতামত দেখা যাচ্ছে। কেউ এটিকে পশু কল্যাণের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ হিসেবে সমালোচনা করছেন।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের এই নতুন বিধিনিষেধ ঘিরে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি আগামী দিনে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।