লালমনিরহাট সীমান্তে যুবক নিহত, উত্তেজনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৯ বার
লালমনিরহাট সীমান্তে যুবক নিহত, উত্তেজনা

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. খাদেমুল নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গভীর রাতে উপজেলার আমঝোল সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ছররা গুলিতে তিনি নিহত হন। তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিএসএফ।

নিহত খাদেমুল উপজেলার উত্তর আমঝোল গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ঘটনার পর পুরো সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে কিছু মানুষকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এ সময় ভারতের পাগলীমারি ক্যাম্পের টহল দল গুলি চালায় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ওই গুলিতে খাদেমুলের মুখ, বুক ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিতভাবে এমন ঘটনা ঘটছে, যা তাদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।

অন্যদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার রাতে তাদের কোনো সদস্য গুলি চালায়নি এবং ব্যবহৃত অস্ত্র পরীক্ষা করেও কোনো ফায়ারিংয়ের আলামত পাওয়া যায়নি।

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। বিজিবির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে বিএসএফ বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তারা নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

সীমান্ত এলাকায় এমন মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে গুলিবর্ষণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এতে করে সীমান্তবাসীর জীবনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সীমান্তে নিরীহ মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দুই দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মানবাধিকারকর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসে।

এদিকে সীমান্তঘেঁষা এলাকার সাধারণ মানুষ দাবি করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কৃষিকাজ ও স্বাভাবিক চলাচলের সময়ও তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন বলে জানান।

সব মিলিয়ে লালমনিরহাট সীমান্তে যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্যদিকে বিএসএফের অস্বীকার—এই দুই ভিন্ন বক্তব্যের কারণে ঘটনার প্রকৃত সত্য এখনো অজানা রয়ে গেছে। তদন্ত ও দুই দেশের আলোচনার পরই এ বিষয়ে স্পষ্টতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত