দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে হাম সংক্রমণ, উদ্বেগে অভিভাবকরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৯ বার
শিশুর হাম সংক্রমণে শঙ্কা বাড়াচ্ছে অভিভাবকদের।

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে প্রতিদিনই হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৫৩ হাজার ৫৬ জন হাম সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ১৫০ জনের ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

একই সময়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে ৪৩২ জনের, যার মধ্যে ৬৯ জনের মৃত্যু সরাসরি হামের কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই পরিসংখ্যান দেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক সময় বাংলাদেশ হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আবারও বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, এটি একটি সতর্ক সংকেত, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে শিশু রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শিশু, যাদের টিকাদান সম্পূর্ণ হয়নি বা সময়মতো হয়নি। এতে করে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে জনসচেতনতার অভাব এবং কিছু অঞ্চলে টিকাদান কর্মসূচির দুর্বল বাস্তবায়ন এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, টিকাদান কার্যক্রম সঠিকভাবে চালু রাখা গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণের হার কমতে শুরু করতে পারে। তবে এর জন্য দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বাকি অংশে পৌঁছাতে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে স্বীকার করেছে সংস্থাটি।

স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, যেসব এলাকায় এখনো টিকাদান পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা জরুরি। বিশেষ করে দুর্গম ও গ্রামীণ অঞ্চলে সচেতনতা বাড়ানো এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, হঠাৎ করে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। হাসপাতালগুলোতে ভিড় এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি টিকা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, সামাজিক সচেতনতা ও সরকারি উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।

সব মিলিয়ে, দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এটি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত