ইউনিয়ন ব্যাংক দুর্নীতি মামলায় বড় অগ্রগতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
ইউনিয়ন ব্যাংকের ১৪৮ কর্মকর্তা তলব

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে নতুন করে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাবেক ১৪৮ কর্মকর্তার নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন দফতরে এসব কর্মকর্তার বিস্তারিত তথ্য পাঠাতে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা মূলত ঋণের নামে ভুয়া লেনদেনের মাধ্যমে বের করে নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে। এই বিপুল অর্থ ব্যাংকটির মোট ঋণের একটি বড় অংশ বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিযোগের তালিকায় ব্যাংকটির সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম মোকাম্মেল হক চৌধুরী, আবদুল হামিদ মিয়া ও ওমর ফারুকসহ আরও অনেকে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

দুদকের একটি অনুসন্ধান দল, উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে, দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়মের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ঋণ অনুমোদন, বিতরণ এবং পরবর্তীতে অর্থ স্থানান্তরের প্রতিটি ধাপে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি বড় ব্যবসায়িক গ্রুপের মাধ্যমে এই অর্থের বড় অংশ বের করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত না থাকা এবং কাগজপত্রে অসংগতি থাকায় বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে ব্যাংকটির ঋণ কার্যক্রমে গুরুতর অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছাড়াই বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, ১৪৮ কর্মকর্তার ভূমিকা যাচাই করতে তাদের চাকরিজীবনের বিভিন্ন নথি, পদোন্নতি সংক্রান্ত তথ্য, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর এবং দায়িত্বকালীন সিদ্ধান্তের রেকর্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব নথি বিশ্লেষণ করে দায় নির্ধারণ করা হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতে এ ধরনের অনিয়ম শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করে। বিপুল অঙ্কের ঋণ অনিয়ম হলে তার প্রভাব পড়ে আমানতকারীদের ওপরও।

দুদক জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঋণ অনুমোদন কমিটির সদস্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ব্যাংকিং খাতের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, অতীতের কিছু দুর্বল নজরদারি এবং প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এখন তদন্ত জোরদার হওয়ায় দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থপাচার ও ব্যাংকিং অনিয়মের এই ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম প্রমাণিত হলে এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।

দুদক আরও জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধভাবে উত্তোলিত অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের আন্তর্জাতিক দিকও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

সব মিলিয়ে ইউনিয়ন ব্যাংককে ঘিরে এই তদন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত