প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের পুঁজিবাজার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ব্যাংকিং খাতকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকেন্দ্রীভূত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury। বুধবার (২০ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল আয়োজিত এক সামিটে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের আর্থিক খাত দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের অস্থিরতা ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে গেছে। তার মতে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায় পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রশাসনিক ও কাঠামোগত বিকেন্দ্রীকরণ এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে মালিকানা কাঠামো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। তার ভাষায়, কোনো ব্যক্তি নিজেকে ব্যাংকের মালিক হিসেবে দাবি করতে পারেন না; ব্যাংকের প্রকৃত মালিক শেয়ারহোল্ডাররা এবং ব্যাংকের অর্থের প্রকৃত মালিক আমানতকারীরা।
অর্থমন্ত্রী মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ এককেন্দ্রিক হওয়ায় জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাই পুঁজিবাজার, এনবিআর এবং ব্যাংকিং খাতকে আরও স্বাধীন ও বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হলে কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে।
একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা Dr. Rashed Al Mahmud Titumir। তিনি বলেন, অতীতে দেশের আর্থিক খাতের রিপোর্টিং ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই দুর্বল ও খামখেয়ালিপূর্ণ ছিল। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বারবার প্রতারিত হয়েছেন এবং প্রকৃত তথ্যের অভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সম্পদের সঠিক মূল্য যাচাই না করেই বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণের ফলে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে এসেছে, যা পুরো খাতের ওপর আস্থা কমিয়ে দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বর্তমান প্রস্তাবিত বিকেন্দ্রীকরণ বাস্তবায়ন করা গেলে আর্থিক খাতে জবাবদিহিতা বাড়বে, তবে এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং স্বচ্ছ নীতিমালা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট কাটাতে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।
সামিটে উপস্থিত বক্তারা আর্থিক খাতের ডিজিটালাইজেশন, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, আধুনিক অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রচলিত কাঠামো থেকে বের হয়ে আরও গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সব মিলিয়ে অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের আর্থিক খাতে একটি বড় সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের নীতিগত পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর।