মেটায় বড় ছাঁটাই: চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
মেটায় বড় ছাঁটাই: চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার

প্রকাশ:  ২০ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Meta Platforms আবারও বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও সংগঠন কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বুধবার থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এটি প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ।

একই সঙ্গে আরও প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে নতুন দায়িত্বে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে কোম্পানিটি, যেখানে মূল ফোকাস থাকবে এআই-নির্ভর প্রকল্প ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাঁটাই কার্যক্রম শুরুর আগে বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মীদের হোম অফিসে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন টাইম জোন অনুযায়ী কর্মীদের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কিছু কর্মী স্থানীয় সময় ভোরের দিকেও এই নোটিশ পান বলে জানা গেছে, যা কর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করে।

রয়টার্সের দেখা একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি এখন আরও “ফ্ল্যাট” বা সরল সাংগঠনিক কাঠামোর দিকে এগোতে চায়। মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জেনেল গেইল কর্মীদের উদ্দেশে বার্তায় জানান, ভবিষ্যতে ছোট ছোট “পড” বা টিম কাঠামো গঠন করা হবে, যাতে কাজের গতি বাড়ে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও দ্রুত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি সাধারণ পুনর্গঠন নয়, বরং প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবের কারণে একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে এআই প্রযুক্তিতে প্রায় ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই পুরোনো কিছু পদ বাতিল করে নতুন এআই-ভিত্তিক ভূমিকা তৈরি করা হচ্ছে।

ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর কোম্পানির ভেতরে কর্মীদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ দেখা দিয়েছে। অনেকেই ভবিষ্যৎ চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কিছু কর্মী আগেভাগেই তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে, যাতে যেকোনো সময় অফিস ছাড়তে হলে সমস্যা না হয়।

কর্মপরিবেশ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন ধরনের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা নিয়ে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, এই ধরনের ব্যবস্থা কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং কাজের স্বাধীনতা কমিয়ে দিচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু মেটার একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং পুরো প্রযুক্তি খাতে একটি বড় প্রবণতা। সাম্প্রতিক সময়ে Microsoft, Amazon, Oracle এবং Cisco Systems–এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও কর্মী ছাঁটাই বা পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে অনেক কাজ এখন সফটওয়্যার ও মেশিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে কোম্পানিগুলো মানবনির্ভর বড় কাঠামো থেকে সরে এসে ছোট কিন্তু দক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর টিম গঠনের দিকে ঝুঁকছে।

অন্যদিকে, কোম্পানির ভেতরে পরিবর্তনের এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে দক্ষতা বাড়ালেও স্বল্পমেয়াদে কর্মীদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের। অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি “প্যারাডাইম শিফট”, যেখানে প্রচলিত চাকরির কাঠামো দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

এআই-নির্ভর ভবিষ্যতের এই পরিবর্তন প্রযুক্তি শিল্পকে যেমন নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তেমনি কর্মসংস্থানের বাজারেও তৈরি করছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে মধ্যম পর্যায়ের প্রযুক্তিগত কাজগুলো ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে মেটার এই ছাঁটাই শুধু একটি কোম্পানির সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে চলমান বড় পরিবর্তনেরই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। যেখানে দক্ষতা, গতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারই হয়ে উঠছে ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত