প্রকাশ: ২৯ শে জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটানের পার্ক অ্যাভিনিউয়ে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামও আছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঘটে যাওয়া এই হামলায় বন্দুকধারীসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমেছে শোকের ছায়া।
পুলিশ জানিয়েছে, শেন তামুরা নামে ২৭ বছরের এক তরুণ এই হামলার জন্য দায়ী। ঘটনার এক ঘণ্টা আগে তিনি লাস ভেগাস থেকে নিউইয়র্কে আসেন এবং ম্যানহাটানের পার্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি করপোরেট ভবনে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করেন। হতাহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষ ছাড়াও ছিলেন ডিউটিতে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম। সাহসিকতার সঙ্গে হামলাকারীকে প্রতিহত করতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারান। ঘটনার শেষ মুহূর্তে হামলাকারী নিজেই নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শেন তামুরা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা মানসিক চাপে ভুগছিলেন।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কমিশনার জেসিকা টিশ এক বিবৃতিতে বলেন, “দিদারুল ইসলাম অসীম সাহসিকতা দেখিয়েছেন। তিনি অনেকের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর এই ত্যাগ আমরা কখনো ভুলব না।”
এনওয়াইপিডির ইন্সপেক্টর খন্দকার আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, ৩৬ বছর বয়সী দিদারুল প্রায় চার বছর ধরে এনওয়াইপিডিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। তিনি নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস বরোর পার্চেস্টার এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। জানা গেছে, তাঁর স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দিদারুলের পরিবার ভেঙে পড়েছে। খবর পাওয়ার পর তাঁর বাবা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, দিদারুলের মরদেহ সোমবার মধ্যরাতে হাসপাতাল থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ইতিমধ্যেই দিদারুলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের দাবিও তুলেছে।
এই হামলা আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ নীতির প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দিদারুল ইসলামের মৃত্যুতে।