সর্বশেষ :
মার্কিন-ইরান সমঝোতার পরও লেবানন ছাড়ছে না ইসরাইল, বাড়ছে নতুন শঙ্কা আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলে ভুল, জরিমানার মুখে কেমব্রিজ ইংলিশ বেঁচে থাকাই বড় অর্জন’, তবে ইরানের লাভ আরও গভীর: বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলেনি: মির্জা ফখরুল খেটে খাওয়া মানুষের জন্য প্রণীত বাজেটকে ‘চানাচুর’ বলার সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার আগ্রহ আশুরার রোজার ফজিলত: গুনাহ মাফ ও আত্মশুদ্ধির এক মহিমান্বিত সুযোগ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি কুমিল্লায় ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ তরুণের পায়ে গুলি: ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

তরুণের পায়ে গুলি: ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ৯ বার

এক তরুণের পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে রাষ্ট্রের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত প্রতিকারও দিতে হবে।

সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন আদালত।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে সংঘটিত একটি ঘটনায় ওই তরুণ গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ সময় চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও শারীরিকভাবে স্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে আদালতকে জানানো হয়।

রিট আবেদনে দাবি করা হয়, ঘটনাটির কারণে ওই তরুণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক জীবনে তিনি নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারকেও দীর্ঘ সময় আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

শুনানিকালে আদালত বলেন, নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়ায় ক্ষতির শিকার হন এবং সেখানে অবহেলা বা অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তাহলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারের আলোকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে উপযুক্ত প্রতিকার প্রদান করা উচিত। তারা উল্লেখ করেন, উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের নজির রয়েছে এবং বাংলাদেশেও আদালত বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের বিষয়েও আদালতকে অবহিত করা হয়।

মানবাধিকারকর্মীরা হাইকোর্টের এই নির্দেশনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় আদালত মানবিক ও সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিয়ে রায় ও নির্দেশনা প্রদান করছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের আইনি প্রতিকার পাওয়ার পথ আরও সুগম হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; বরং এটি একটি আইনগত ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। বিশেষ করে যখন কোনো ব্যক্তি অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন বা তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তার ক্ষতির যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করা।

ঘটনার পর থেকে ওই তরুণ ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় ছিলেন। হাইকোর্টের এই নির্দেশনার ফলে তারা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের রায় ও নির্দেশনা শুধু একটি নির্দিষ্ট মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হয়।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার জন্য ন্যায়বিচারের পাশাপাশি কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা জরুরি। আদালতের এই নির্দেশনা সেই নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত