সর্বশেষ :
বেঁচে থাকাই বড় অর্জন’, তবে ইরানের লাভ আরও গভীর: বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলেনি: মির্জা ফখরুল খেটে খাওয়া মানুষের জন্য প্রণীত বাজেটকে ‘চানাচুর’ বলার সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার আগ্রহ আশুরার রোজার ফজিলত: গুনাহ মাফ ও আত্মশুদ্ধির এক মহিমান্বিত সুযোগ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি কুমিল্লায় ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ তরুণের পায়ে গুলি: ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী থালা-বাসন পরিষ্কার নিয়ে বিরোধ, মালিকের হাতুড়ির আঘাতে হোটেলকর্মী নিহত

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলেনি: মির্জা ফখরুল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্রের মধ্যে কখনোই প্রকৃত অর্থে সহাবস্থান ছিল না। তার দাবি, দলটি দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছে।

রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার চেয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রবণতাই আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মতকে দমন, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এসব সূচকে দেশের অবস্থান নিয়ে জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই কার্যকর ভূমিকা থাকে। কিন্তু যখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে শত্রুতায় রূপ দেওয়া হয়, তখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হয়ে পড়ে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের রাজনীতিতে বহু বছর ধরে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে বিরোধী মত প্রকাশ করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে উঠেছিল।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। জনগণ যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে গণতান্ত্রিক সংস্কার ও প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।

দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি চায় যেখানে মতভেদ থাকবে, কিন্তু সহিংসতা থাকবে না; রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা থাকবে না। সেই লক্ষ্য অর্জনে সকল রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নানা সময় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কখনো সামরিক শাসন, কখনো রাজনৈতিক সংঘাত, আবার কখনো প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা গণতন্ত্রের পথকে কঠিন করে তুলেছে। তবে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা কখনো হারিয়ে যায়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতনতার মাধ্যমে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গণতন্ত্রের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনর্গঠন জরুরি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রও প্রসারিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্মাণ করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হলো জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে তিনি রাজনৈতিক কর্মীদের জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার, সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত