সর্বশেষ :
তথ্য-উপাত্ত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার ঢলের পানি নামতেই খুলে দেওয়া হলো সাদাপাথর, ফিরছে পর্যটকদের ভিড় ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ, নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ব্যবস্থা ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তির লক্ষ্য, নতুন রোডম্যাপে সম্মত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সন্ধ্যার মধ্যে কয়েকটি জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এক হাজার ফুটবল উপহার দিলেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি আইআরজিসির কুদস ফোর্স প্রধানের, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ, বেতন ছাড়াও মিলবে বিমা, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ নানা সুবিধা ইটের আঘাতে গুরুতর আহত বাইকার সাজিদের মৃত্যু, শোক ও ক্ষোভ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে তারেক রহমান, গুরুত্ব পেল পারস্পরিক সহযোগিতা

মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী, বিমানবন্দরে লালগালিচা সংবর্ধনা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ৮ বার

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা উপলক্ষে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় মালয়েশিয়ার সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি, কূটনৈতিক কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী অভ্যর্থনা জানানো হয়। গার্ড অব অনার প্রদানের পাশাপাশি দুই দেশের জাতীয় সংগীতও বাজানো হয়। পরে তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিস্তার ঘটেছে। উভয় দেশই এই সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী।

বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার বিষয়ক আলোচনা। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তারা দেশটির বিভিন্ন শিল্প, নির্মাণ, কৃষি এবং সেবা খাতে কাজ করছেন। ফলে প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়গুলো আলোচনায় অগ্রাধিকার পেতে পারে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়টিও সফরের অন্যতম এজেন্ডা। বাংলাদেশে অবকাঠামো, উৎপাদন শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ও স্থান পেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকেও শক্তিশালী করে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শিক্ষা খাতেও সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবছর অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য মালয়েশিয়ায় যান। ফলে শিক্ষা বিনিময়, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সফরকে ঘিরে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গেছে। অনেকেই আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি হিসেবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।

এদিকে সফরের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করার চেষ্টা করা হবে।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন এবং তাকে দেওয়া লালগালিচা সংবর্ধনা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সফর শেষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সমঝোতা ও সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত