সর্বশেষ :
জনবল নিয়োগ দিচ্ছে ট্রাস্ট ব্যাংক, আবেদন করতে পারবেন সারা দেশের প্রার্থীরা দেশের অধিকাংশ ইটভাটা অবৈধ, কঠোর নজরদারির ঘোষণা সরকারের নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন স্টারমার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন বদিউজ্জামান তপাদার নকআউট নিশ্চিতের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ আদ্‌-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ, নতুন চ্যালেঞ্জে টাইগাররা ফরিদপুরে অস্ত্রের মুখে পরিবারকে জিম্মি করে ডাকাতি, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট হামের প্রকোপ বাড়ছে, উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু; আক্রান্ত ১১২৫ খুলনায় বিশেষ অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

বরিশালে উদ্বেগজনক চিত্র, সাইবার বুলিংয়ের শিকার দুই-তৃতীয়াংশ তরুণী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ৯ বার

ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের ঘটনাও বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা ও পর্যবেক্ষণমূলক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বরিশাল অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণী কোনো না কোনো সময়ে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি তিনজন তরুণীর মধ্যে প্রায় দুইজন অনলাইন হয়রানি, অপমানজনক মন্তব্য, ভুয়া তথ্য প্রচার কিংবা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহার তরুণদের জন্য যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে নতুন ধরনের ঝুঁকিও। বিশেষ করে নারীরা অনলাইন জগতে নানা ধরনের মানসিক চাপ, হুমকি এবং হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন।

গবেষণায় অংশ নেওয়া অনেক তরুণী জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন বার্তা, অনুমতি ছাড়া ছবি ব্যবহার, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং পরিচয় ভুয়া করে অপপ্রচার চালানোর মতো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। এসব ঘটনার কারণে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেন।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সাইবার বুলিং শুধু সাময়িক অস্বস্তির বিষয় নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মমর্যাদাবোধের সংকটে ভোগেন।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাবও এই সমস্যার একটি বড় কারণ। অনেক ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি এবং অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য উন্মুক্তভাবে শেয়ার করেন, যা অসাধু ব্যক্তিদের অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে।

নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ার পরও অনেক তরুণী সামাজিক লজ্জা বা পারিবারিক চাপে বিষয়টি প্রকাশ করেন না। ফলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয় এবং একই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় দেশে বিদ্যমান আইন রয়েছে এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে অনেক ভুক্তভোগী আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে আগ্রহী হন না, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে।

শিক্ষাবিদদের মতে, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ডিজিটাল নাগরিকত্ব এবং অনলাইন আচরণবিধি নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন। প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি এর ঝুঁকি সম্পর্কেও তরুণদের শিক্ষিত করতে হবে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অনেক তরুণী হয়রানির শিকার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি সীমিত করে ফেলেন। কেউ কেউ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন বা অনলাইনে মতামত প্রকাশ থেকে বিরত থাকেন। এতে তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, সাইবার বুলিং একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যাও। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল আচরণ, পারস্পরিক সম্মানবোধ এবং ডিজিটাল নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

অভিভাবকদের প্রতিও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং খোলামেলা যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সহযোগিতা ও মানসিক সমর্থন প্রদান করা প্রয়োজন।

এদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্তকরণ, হয়রানিমূলক কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশালে সাইবার বুলিংয়ের এই চিত্র শুধু একটি অঞ্চলের বাস্তবতা নয়, বরং দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি থাকতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাই জাতীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে সাইবার নিরাপত্তা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত সুরক্ষা—এই চারটি ক্ষেত্র একসঙ্গে শক্তিশালী করা গেলে সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত