সর্বশেষ :
জনবল নিয়োগ দিচ্ছে ট্রাস্ট ব্যাংক, আবেদন করতে পারবেন সারা দেশের প্রার্থীরা দেশের অধিকাংশ ইটভাটা অবৈধ, কঠোর নজরদারির ঘোষণা সরকারের নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন স্টারমার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন বদিউজ্জামান তপাদার নকআউট নিশ্চিতের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ আদ্‌-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ, নতুন চ্যালেঞ্জে টাইগাররা ফরিদপুরে অস্ত্রের মুখে পরিবারকে জিম্মি করে ডাকাতি, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট হামের প্রকোপ বাড়ছে, উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু; আক্রান্ত ১১২৫ খুলনায় বিশেষ অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

দেশের অধিকাংশ ইটভাটা অবৈধ, কঠোর নজরদারির ঘোষণা সরকারের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ৪ বার

দেশে পরিচালিত প্রায় ৮ হাজার ইটভাটার মধ্যে ৫ হাজারেরও বেশি অবৈধভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, বৈধ অনুমোদন এবং নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ না করেই বিপুলসংখ্যক ইটভাটা দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেশি হওয়ায় এ খাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত অনেক ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছে। এছাড়া কিছু ভাটা অনুমোদন পেলেও পরিবেশগত শর্ত মানছে না। ফলে কৃষিজমি, বনাঞ্চল এবং জনবসতির কাছাকাছি স্থানে এসব ভাটা পরিচালিত হওয়ায় পরিবেশগত ক্ষতি বাড়ছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইটভাটা দেশের বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস। এসব ভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ক্ষতিকর কণা বাতাসের মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ইটভাটার ধোঁয়া আশপাশের এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুসের রোগ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। শিশু ও বয়স্করা এর কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইট উৎপাদন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে জ্বালানির ব্যবহার কমবে এবং বায়ুদূষণও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় অভিযান পরিচালনা করে একাধিক অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেক ভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে কার্যক্রম বন্ধও করে দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ ইটভাটা শুধু বায়ুদূষণই নয়, কৃষি উৎপাদন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে উর্বর কৃষিজমির মাটি কেটে ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য উৎপাদনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কৃষিজমির উপর চাপ কমাতে বিকল্প নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো প্রয়োজন।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও প্রয়োজন।

এদিকে নির্মাণ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নির্মাণকাজের কারণে ইটের চাহিদা অনেক বেশি। তাই পরিবেশ রক্ষা ও শিল্পের প্রয়োজনের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার পরিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেবে না। যারা আইন লঙ্ঘন করে ইটভাটা পরিচালনা করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে বায়ুদূষণ কমানো, কৃষিজমি রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সহায়ক হবে।

সব মিলিয়ে, দেশে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ ইটভাটার অস্তিত্ব পরিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সরকারের কঠোর অবস্থান এবং নিয়মিত তদারকি এই সমস্যার সমাধানে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত