ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ায় ৭ দলকে ইসির শোকজ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ১০ বার

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা না দেওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ সাতটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন-পরবর্তী আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের এ পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পৃথক পৃথক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সাতটি রাজনৈতিক দলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব জমা না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যেসব দলকে শোকজ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এবং আমজনতার দল।

নির্বাচন কমিশনের পাঠানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব রাজনৈতিক দল প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচন শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা বাধ্যতামূলক। এই বিধান রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট দলগুলো ব্যয়ের হিসাব জমা না দেওয়ায় গত ১৬ মার্চ তাদের কাছে প্রথম দফায় চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে ১৩ মে’র মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এরপরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় ১৯ মে দ্বিতীয় দফায় সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠিয়ে ১৩ জুন পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও সাতটি দল তাদের নিরীক্ষিত ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেনি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪৪গগগ (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল না করলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে অতিরিক্ত সময় দিতে পারে। এরপরও যদি কোনো দল ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী দলটির নিবন্ধন বাতিল করার ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। ফলে বর্তমান শোকজ নোটিশকে ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপের পূর্বধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নোটিশে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করে নির্বাচনী ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে অনতিবিলম্বে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থের উৎস ও নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য জনসমক্ষে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং অবৈধ অর্থের ব্যবহার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়। তাই নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিলের বিধান কেবল একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ব্যয় কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। বাংলাদেশেও নির্বাচন কমিশন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এসব বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে নির্বাচন কমিশনের। আইন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে কমিশন তাদের ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিলের বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য ঐচ্ছিক নয়; বরং এটি আইনগত বাধ্যবাধকতা। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট আইনের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত