দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে গ্রুপসেরা ফ্রান্স

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ । স্পোর্টস ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে দাপটের সঙ্গে ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে ৪-১ গোলে পরাজিত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্সের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে নরওয়েকে অনেকটা অসহায় দেখিয়েছে। একদিকে ছিল বর্তমান রানার্সআপদের তারকাসমৃদ্ধ দল, অন্যদিকে ছিল আর্লিং হালান্ডবিহীন নরওয়ের লড়াইয়ের চেষ্টা। শেষ পর্যন্ত ফরাসিদের গতি, দক্ষতা ও আক্রমণভাগের ধার সামলাতে পারেনি নরওয়ে।

নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন উসমান দেম্বেলে। সদ্য ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফরোয়ার্ড মাত্র ৩২ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়েছেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্স চাপ তৈরি করতে থাকে। সপ্তম মিনিটেই দেম্বেলের গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি দলকে স্বস্তির শুরু এনে দেন।

এরপর ২০তম মিনিটে আবারও জালের দেখা পান দেম্বেলে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্সকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান তিনি।

তবে পিছিয়ে পড়েও নরওয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। মাত্র এক মিনিট পর থেলোনিয়াস আসগার্ড গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনেন। ২-১ ব্যবধানে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয় নরওয়ের।

কিন্তু ফ্রান্সের আক্রমণ থামানো সম্ভব হয়নি। ৩২তম মিনিটে অরেলিয়েন চুয়ামেনির কাছ থেকে বল পেয়ে দেম্বেলে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। নরওয়ের গোলরক্ষক সেই শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি।

এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে দেম্বেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের মালিক হয়েছেন। এর আগে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার এরিক প্রবস্ট ২৪ মিনিটে সাবেক চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন।

দেম্বেলের এই পারফরম্যান্স শুধু ম্যাচের ফলই বদলে দেয়নি, বরং বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে তার ব্যক্তিগত সামর্থ্যেরও বড় প্রমাণ দিয়েছে। ফ্রান্সের আক্রমণভাগে তার গতি ও সৃজনশীলতা নরওয়ের রক্ষণভাগকে পুরো ম্যাচজুড়ে চাপে রেখেছিল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবশ্য নরওয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। বক্সের মধ্যে অস্কার বব ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেনের দুর্বল স্পটকিক দারুণ দক্ষতায় আটকে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ।

পেনাল্টি মিসের পর নরওয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আরও কমে যায়। ফ্রান্স ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে আর বড় কোনো সুযোগ দেয়নি।

যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে দেজিরে দুয়ের গোল করে ফ্রান্সের জয়কে আরও বড় করেন। শেষ বাঁশি বাজার আগে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-১।

এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নকআউট পর্বে পা রাখল ফ্রান্স। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দলটির লক্ষ্য ছিল ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখা, আর নরওয়ের বিপক্ষে বড় জয় সেই আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল।

কিলিয়ান এমবাপ্পে মাঠে থাকলেও ম্যাচের আলো কেড়ে নিয়েছেন দেম্বেলে। ফ্রান্সের তারকা আক্রমণভাগের মধ্যে প্রতিযোগিতা এখন আরও জমে উঠবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

নরওয়ের জন্য এই ম্যাচটি ছিল হতাশার। বিশেষ করে হালান্ডের অনুপস্থিতি তাদের আক্রমণভাগে বড় প্রভাব ফেলেছে। কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ফ্রান্সের শক্তিশালী রক্ষণ ও গোলরক্ষকের সামনে তারা কার্যকর হতে পারেনি।

ফ্রান্স এখন নকআউট পর্বে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হবে। তবে গ্রুপ পর্বে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স দলটির আত্মবিশ্বাসকে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর মধ্যে ফ্রান্স আবারও নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। আর উসমান দেম্বেলের ঝড়ো পারফরম্যান্স তাদের শিরোপা অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত