বিশ্বকাপ অভিষেকেই কেপ ভার্দের ইতিহাস

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ । স্পোর্টস ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিষেকেই ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নিয়েই তারা জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে। নিজেদের স্বপ্নযাত্রার এই অধ্যায়ে এখন তাদের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের পথচলা অনেকটা রূপকথার গল্পের মতো। যাদের বিশ্বকাপ ইতিহাস এতদিন ছিল শুধুই স্বপ্ন, সেই দলটি এবার নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছে। গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করে আফ্রিকার এই দল।

শুক্রবার অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এইচ’-এর শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে মাঠে নামে কেপ ভার্দে। দুই দলের কেউই গোলের দেখা না পেলেও ম্যাচের ফলাফল কেপ ভার্দের জন্য ছিল ঐতিহাসিক। একই সময়ে গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্পেন ১-০ গোলে উরুগুয়েকে পরাজিত করে। ফলে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।

অন্যদিকে কেপ ভার্দে তিন ম্যাচে তিনটি ড্র করে সংগ্রহ করে ৩ পয়েন্ট। জয় না পেলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে রানার্সআপ হয়ে তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণেই এমন সাফল্য দলটির জন্য বিশেষ অর্জন হয়ে থাকল।

গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়েছে দুই শক্তিশালী দল উরুগুয়ে ও সৌদি আরব। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের জন্য এবারের অভিযান ছিল হতাশাজনক। তিন ম্যাচ খেলেও তারা কোনো জয় তুলে নিতে পারেনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র এবং স্পেনের কাছে পরাজয় তাদের বিদায়ের পথ তৈরি করে দেয়।

অন্যদিকে সৌদি আরবও প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল করতে পারেনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও গোল করতে ব্যর্থ হয় তারা। ফলে ২ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় মধ্যপ্রাচ্যের দলটিকে।

এদিকে আর্জেন্টিনা আগেই নিজেদের গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছিল। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য নকআউট পর্বের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত ছিল ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। শেষ পর্যন্ত সেই জায়গা দখল করেছে কেপ ভার্দে।

আগামী ৩ জুলাই মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই দুই দলের এটি হবে প্রথম সাক্ষাৎ। একদিকে থাকবে লিওনেল মেসিদের মতো অভিজ্ঞ ও তারকাসমৃদ্ধ দল, অন্যদিকে থাকবে প্রথম বিশ্বকাপেই চমক দেখানো একদল নতুন যোদ্ধা।

আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি শুধু নকআউট পর্বের একটি ধাপ নয়, বরং বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যাদা ধরে রাখার আরেকটি পরীক্ষা। লিওনেল স্কালোনির দল টুর্নামেন্টে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইবে। দলের আক্রমণভাগ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের ভারসাম্য কেপ ভার্দের বিপক্ষে বড় ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে কেপ ভার্দে জানে, তাদের সামনে থাকা প্রতিপক্ষ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। কিন্তু বিশ্বকাপে তাদের এখন পর্যন্ত যাত্রা দেখিয়েছে, চাপের মুহূর্তেও তারা নিজেদের সামলে রাখতে পারে। ছোট দলের পরিচয় পেছনে ফেলে তারা নিজেদের যোগ্যতার জায়গা তৈরি করেছে।

কেপ ভার্দের এই সাফল্য আফ্রিকান ফুটবলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিশ্ব ফুটবলে ছোট দেশগুলোর সম্ভাবনা ও প্রতিভার নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে তারা। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও একটি দল কীভাবে বড় মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরতে পারে, সেটিরই প্রমাণ হয়ে উঠেছে কেপ ভার্দে।

আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের ম্যাচের দিকে তাই শুধু দুই দেশের সমর্থকরাই নয়, ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে। কারণ বিশ্বকাপে অনেক সময় কাগজে-কলমের শক্তির হিসাব পাল্টে যায় মাঠের পারফরম্যান্সে।

আর্জেন্টিনা যদি কেপ ভার্দেকে হারাতে পারে, তাহলে তারা শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেবে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘ডি’ ও ‘জি’ গ্রুপের রানার্সআপদের মধ্যকার নকআউট ম্যাচের বিজয়ী দল।

ইতোমধ্যে ‘ডি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। তবে ‘জি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল তখনও চূড়ান্ত হয়নি। বেলজিয়াম, ইরান, মিসর কিংবা নিউজিল্যান্ড—যেকোনো একটি দল সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে।

তবে সেই হিসাবের আগে আর্জেন্টিনাকে পেরোতে হবে কেপ ভার্দের বাধা। আর কেপ ভার্দের সামনে রয়েছে নিজেদের রূপকথার গল্পকে আরও বড় করে লেখার সুযোগ।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অভিষেকেই নকআউটে ওঠা খুবই বিরল ঘটনা। কেপ ভার্দে সেই বিরল তালিকায় নাম লিখিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও কি তারা নিজেদের বিস্ময়কর যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারবে?

ফুটবল বিশ্ব সেই উত্তরের অপেক্ষায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত