প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ । আন্তর্জাতিক ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপের কোনো দেশ যদি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ডিজিটাল সেবা কর আরোপ করে, তাহলে সেই দেশের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন। তার এই বক্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল সেবা কর আরোপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। কিছু দেশ এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের খুব কাছাকাছি রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যেসব দেশ এমন কর আরোপ করবে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডিজিটাল সেবা কর চালু করা হলে ওই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যের ওপর অবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক এবং চুক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে প্রযুক্তি খাতকে কেন্দ্র করে বিরোধ নতুন নয়। বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হওয়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর কর আরোপের বিষয়ে আলোচনা করে আসছে।
ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের যুক্তি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ ব্যবসা করলেও অনেক সময় স্থানীয় কর ব্যবস্থায় তাদের অবদান তুলনামূলক কম থাকে। এই বৈষম্য কমাতেই ডিজিটাল সেবা করের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ইউরোপের অনেক দেশ মনে করে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, এসব কর মূলত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে নেওয়া হচ্ছে এবং তা বৈষম্যমূলক বাণিজ্য নীতির অংশ। এর আগেও ওয়াশিংটন ইউরোপের ডিজিটাল কর ব্যবস্থার সমালোচনা করেছে।
ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ। এসব দেশ প্রযুক্তি খাতে কর আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন, কারণ দেশটি ২০২০ সাল থেকেই ডিজিটাল সেবা কর চালু রেখেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাজ্যের ওপর এই সম্ভাব্য শুল্ক ব্যবস্থার প্রভাব কী হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করে, তাহলে তা আটলান্টিকপারের বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে ইউরোপীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইউরোপীয় পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব ভোক্তা ও ব্যবসা উভয়ের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে পাল্টা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে নতুন করে শুল্ক যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, প্রযুক্তি খাত এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই খাতকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিরোধ শুধু দুই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন কর আরোপ করবে, তাদের রপ্তানি পণ্যের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের এই হুমকির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের মিত্রতার হলেও বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নীতির ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে। ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধের সমাধান হবে, নাকি নতুন করে শুল্ক সংঘাত তৈরি হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।