৯২ বছর পর নকআউটে মিশর, বিদায় শঙ্কায় ইরান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ । স্পোর্টস ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে মিশর। টুর্নামেন্টে অভিষেকের ৯২ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দলটি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে নাটকীয় ড্র করে মিশর নিশ্চিত করেছে শেষ ৩২-এর টিকিট।

তবে এই ম্যাচে নাটকীয়তার কোনো কমতি ছিল না। শেষ মুহূর্তে ইরানের জয়সূচক গোল, উদযাপনের প্রস্তুতি, এরপর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) দেখে সেই গোল বাতিল—সব মিলিয়ে ম্যাচটি হয়ে ওঠে বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত লড়াই।

শনিবার (২৭ জুন) সিয়াটল স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘জি’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয় মিশর ও ইরান। শেষ পর্যন্ত দুই দল ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে। এই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ রানার্সআপ হয় মিশর।

অন্যদিকে একই গ্রুপের আরেক ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেলজিয়াম। বেলজিয়ামও ৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে।

মিশরের জন্য এবারের বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক যাত্রা। ১৯৩৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠেছে। ফুটবল ইতিহাসে এটি তাদের জন্য বড় এক অর্জন।

ম্যাচের শুরুতেই নিজেদের শক্তির জানান দেয় মিশর। মাত্র পঞ্চম মিনিটে মাহমুদ সাবের গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্রুত আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ইরানের রক্ষণ ভেদ করেন।

পিছিয়ে পড়ে ইরানও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ১৪তম মিনিটে রামিন রেজায়িয়ান দুর্দান্ত এক শটে সমতা ফেরান। কঠিন কোণ থেকে নেওয়া তার শট মিশরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে।

এরপর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ইরানের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে প্রথমার্ধেই। কিন্তু মেহদি তারেমির পেনাল্টি রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক। ম্যাচের শেষ দিকে আবারও তার হেডার ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নাটক জমে ওঠে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে শোজা খলিলজাদেহ ইরানের হয়ে গোল করেন। গ্যালারিতে তখন ইরানি সমর্থকদের উল্লাস শুরু হয়ে যায়। মনে হচ্ছিল, শেষ মুহূর্তের গোলে নকআউট নিশ্চিত করবে এশিয়ার দলটি।

কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর দেখা যায়, গোলের সময় অফসাইড অবস্থানে ছিলেন ইরানের খেলোয়াড়। ফলে গোল বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ইরানকে।

তিন ম্যাচে তিন ড্র করে ইরানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ পয়েন্ট। তবে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকায় জায়গা পেলে শেষ ৩২-এ উঠতে পারে তারা।

বর্তমানে তৃতীয় সেরা দলগুলোর তালিকায় ইরানের অবস্থান নিয়ে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। তাদের নকআউট ভাগ্য নিশ্চিত হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর। তাই রোববার (২৮ জুন) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ইরানকে।

অন্যদিকে মিশরের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘ডি’ গ্রুপের রানার্সআপ অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম নকআউট ম্যাচ খেলতে নামবে মিশর, আর তাদের লক্ষ্য থাকবে ইতিহাসের এই যাত্রাকে আরও দীর্ঘ করা।

এদিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়াম নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নেয়। ভ্যাঙ্কুবারের বিসি প্লেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তারা ৫-১ গোলে জয় পায়।

বেলজিয়ামের হয়ে জোড়া গোল করেন লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড। এছাড়া কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু এবং আলেক্সিস সালেমেকার্স একটি করে গোল করেন। নিউজিল্যান্ডের একমাত্র গোলটি আসে এলিজাহ জাস্টের কাছ থেকে।

বেলজিয়ামের এই জয় তাদের গ্রুপসেরা হিসেবে নকআউটে যাওয়ার পথ নিশ্চিত করে। তবে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

মিশর-ইরানের ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করেছে বিশ্বকাপের সৌন্দর্য শুধু বড় দলের আধিপত্যে নয়, বরং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা, ছোট দলের স্বপ্ন এবং প্রতিটি গোলের গুরুত্বেও লুকিয়ে থাকে।

৯২ বছরের অপেক্ষার পর মিশরের নকআউট যাত্রা শুরু হচ্ছে। আর ইরান এখন তাকিয়ে আছে ভাগ্যের দিকে—অন্য ম্যাচগুলোর ফলই ঠিক করবে তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন বেঁচে থাকবে কি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত