প্রকাশ: ০৩ অগাস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাশিয়ার পর্যটননগরী সোচিতে ইউক্রেইনের চালানো ড্রোন হামলার পর একটি তেলের ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্থিত ক্রাসনোদার অঞ্চলের অ্যাডলার এলাকায় এই হামলায় ২০০০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২০ জনেরও বেশি দমকল কর্মী কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ।
রাশিয়ার জরুরি বিভাগের বরাতে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, আগুন লাগার পরপরই ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। ঘটনার সময় সোচি বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং পরে তা পুনরায় চালু করা হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার রাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো মোট ৯৩টি ইউক্রেইনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে ৬০টি কৃষ্ণ সাগরের ওপরে এবং একটি সোচি অঞ্চলের আকাশে ধ্বংস করা হয়। তবে ইউক্রেইনের কতগুলো ড্রোন এই হামলায় অংশ নিয়েছে, তা জানায়নি রাশিয়া। ইউক্রেইন থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে আগের মাসেও সোচির অ্যাডলার এলাকায় ইউক্রেইনের ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত হয়েছিলেন।
ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইলস্কি তেল শোধনাগার, যা রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ তেল স্থাপনা, আগেও একাধিকবার ইউক্রেইনের ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেইনের সীমান্তবর্তী ভোরোনেজ অঞ্চলেও ড্রোন হামলা হয়েছে, যেখানে ১৮টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভেও রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সামরিক প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই সাম্প্রতিক হামলাগুলো নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়াতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।