ইউক্রেন সংকট নিরসনে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা: রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত উইটকফ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৭ বার

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার আবহে আগামী সপ্তাহে রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্র ও সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, স্থানীয় সময় রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে আনেন।

ট্রাম্প বলেন, “আমি আশা করছি, আগামী সপ্তাহে বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার উইটকফ মস্কো সফরে যাবেন।” তিনি স্পষ্ট জানান, উইটকফের এই সফরের উদ্দেশ্য রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা অব্যাহত রাখা এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছার পথ খুঁজে বের করা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “মানুষ হত্যা বন্ধে একটি চুক্তিই এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে। নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই আমরা সমাধানে যেতে চাই।” তবে, তিনি একই সঙ্গে সতর্কবার্তাও দেন যে, রাশিয়া যদি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হয়, তাহলে মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে।

সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ট্রাম্প উল্লেখ করেন, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে অনলাইন উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর তিনি দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েন করেছেন এবং সেগুলো এখনো ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। যদিও এই সাবমেরিন দুটি পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত কিনা বা সেগুলো ঠিক কোথায় মোতায়েন আছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেনি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন রাখার নীতিতে অটল রয়েছে।

রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটও ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে আসে। গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি বহুতল ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত হন। ট্রাম্প এই হামলাকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই ধরনের বর্বরতা অনিবার্যভাবে সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তোলে।” তিনি আরও জানান, ওই দিন রাশিয়া একযোগে ৬,২৯৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১৪ গুণ বেশি।

স্টিভ উইটকফ এর আগে একাধিকবার রাশিয়ায় সফর করেছেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। হোয়াইট হাউজের বিশেষ দূত হিসেবে তার অভিজ্ঞতা কেবল ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি মধ্যপ্রাচ্যেও বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করছেন এবং সেখানে ইসরাইল-হামাস সংঘাত নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উইটকফের এই সফর কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এক সময়েই হচ্ছে যখন রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই সামরিক চাপ ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যদিও এখনো এ যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখে একটি বড় আশাবাদের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সফর যে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে, তা নিয়ে কেউ কেউ আশাবাদী হলেও কূটনৈতিক পরিসরে একে চ্যালেঞ্জিং ও অনিশ্চিত প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ, মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান এবং তার অতীত কূটনীতির বিতর্কিত নজির এই আলোচনাকে নিয়ে এসেছে বাড়তি সতর্কতার আওতায়।

বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে স্টিভ উইটকফের সফরের দিকে—এটি কি কেবল আরেকটি প্রতীকী প্রচেষ্টা, নাকি সত্যিকারের কূটনৈতিক সমাধানের সূচনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত