ই-রিটার্নে বিপুল সাড়া: করবর্ষের প্রথম দিনেই ১০ হাজারের বেশি আয়কর রিটার্ন দাখিল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫২ বার

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

২০২৫-২৬ অর্থবছরের করবর্ষ শুরু হতেই আয়কর রিটার্ন দাখিলে করদাতাদের অভূতপূর্ব সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম দিনেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন ১০ হাজার ২০২ জন করদাতা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ বেশি। নতুন করবর্ষের এই ই-রিটার্ন কার্যক্রম সোমবার (৪ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ করবর্ষে অনলাইন রিটার্ন দাখিল শুরু হয়েছিল ৯ সেপ্টেম্বর, এবং প্রথম দিনে ই-রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ২ হাজার ৩৪৪ জন। এবারের করবর্ষে অনেক আগেই এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এবং ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করায় এতে ব্যাপক সাড়া মিলেছে করদাতাদের কাছ থেকে।

চলতি বছর এনবিআর ৩ আগস্ট একটি বিশেষ আদেশ জারি করে জানায়, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতা এবং মৃত করদাতার পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনগত প্রতিনিধি ব্যতীত দেশের সব ব্যক্তি করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি করদাতা যদি ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে না পারেন, তবে তিনি ৩১ অক্টোবর ২০২৫ সালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের নিকট যথাযথ যুক্তি তুলে ধরে আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে তাকে পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হবে।করদাতারা ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারছেন ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ কিংবা অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে। এসব ডিজিটাল মাধ্যমে কর পরিশোধ করার পর করদাতা নিজেই তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্ন দাখিলের প্রিন্ট কপি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর সনদও সংগ্রহ করতে পারছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, করদাতারা যাতে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে কোনো ধরনের জটিলতার সম্মুখীন না হন, সে লক্ষ্যে এনবিআরের হেল্পডেস্ক, কলসেন্টার ও অন্যান্য অনলাইন সাপোর্ট ব্যবস্থা ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থাপনা করদাতাদের আস্থা বৃদ্ধি করেছে এবং কর সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই দূর করতে সক্ষম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

প্রসঙ্গত, গত করবর্ষে সীমিত আকারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে ১৭ লাখেরও বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। এবারের বছরে এনবিআরের বাধ্যতামূলক অনলাইন রিটার্ন দাখিল নীতিমালার পরিপ্রেক্ষিতে কর সচেতনতা এবং ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি ধারা সূচিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সরকারি সূত্রমতে, ভবিষ্যতে কর ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয় ও স্বচ্ছ করতে এনবিআর আরও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যাতে করে করদাতাদের হয়রানি কমে এবং কর আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পায়। নতুন করবর্ষের এই সফল সূচনা দেশের ডিজিটাল অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে রাজস্ব বিভাগের পক্ষ থেকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত