প্রকাশ: ০৮ অগাস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বর্তমান সময়ে ফিলিস্তিনি উপত্যকায় সংঘটিত ইসরায়েলি-হামাস সংঘর্ষ নতুন মাত্রায় উত্তেজনার মুখোমুখি হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সরকার গাজায় ইসরাইলের সামরিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইসরাইলকে এ ধরণের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং শুক্রবার এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজা দখল মানবিক সংকটকে আরও গুরুতর মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও চ্যালেঞ্জস্বরূপ হবে।
পেনি ওং বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ইসরাইলকে এই পথে যেতে অনুরোধ করেছে কারণ এটি গাজার জনগণের জন্য অতিরিক্ত মানবিক বিপর্যয় তৈরি করবে এবং সংঘর্ষের অবসানকে আরও দূর করে দেবে।’ তিনি আরো জানান, অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে স্থায়ীভাবে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বিরোধী এবং যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিয়ে আসছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস কর্তৃক গৃহীত জিম্মিদের মুক্তির জন্য অস্ট্রেলিয়া বারবার আহ্বান জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার দাবি, এই জটিল সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান হতে পারে কেবল দুই-রাষ্ট্রীয় সমাধানের মাধ্যমে, যেখানে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ও ইসরাইল রাষ্ট্র পরস্পরের স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তায় বসবাস করবে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া এখনো যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা মিত্রদের মতো স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেনি। তারা বলেছে, ‘উপযুক্ত সময় এলে’ বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, তবে ইসরায়েলের গাজার সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে।
অপরদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গাজা দখলের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ইসরাইল গাজার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়, কিন্তু সেখানে সরকার গঠন করার পরিকল্পনা নেই। বরং তারা একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা এবং তারপর তা কোনো তৃতীয় পক্ষের হাতে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রসঙ্গে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাও গাজা শহর দখলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এবং সেনাবাহিনীকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজা অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের রক্ষার্থে এই অঞ্চল থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সহনশীলতার বিকল্প নেই বলে একমত বিশ্ব সম্প্রদায়। অস্ট্রেলিয়ার এই আহ্বানও সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করছে, যেখানে গাজার মানুষদের ওপর অতিরিক্ত আঘাত এড়াতে শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের বিকল্প ছাড়া আর কোনও পথ নেই।
গাজায় চলমান এই সংকটের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন রয়েছে ভবিষ্যৎ যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতি ও মানবিক সুরক্ষার ওপর। বিষয়টি বাংলাদেশের মতো শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সংঘাতের প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সহস্র মানুষের জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। তাই গাজায় সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরো সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া অত্যাবশ্যক বলে মনে করা হচ্ছে।