আগামীকাল ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী, থাকছে দিনভর নানা কর্মসূচি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার
আগামীকাল ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী, থাকছে দিনভর নানা কর্মসূচি

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিনব্যাপী ফেনী সফরে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলায় এটিই তাঁর প্রথম সফর। সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দিনভর একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার কার্যক্রম উদ্বোধন এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে সফরে।

সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। একই স্থানে স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথাও রয়েছে।

ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীসহ সীমান্তঘেঁষা এলাকার মানুষের কাছে বন্যা ও নদীভাঙন দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। বর্ষা মৌসুমে মুহুরী ও কহুয়া নদীর পানি বৃদ্ধি এবং নদীর তীরবর্তী এলাকায় জলাবদ্ধতা ও ভাঙনের কারণে স্থানীয়দের কৃষি, বসতভিটা ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধনকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ হলে বন্যার ঝুঁকি কমানো, কৃষিজমি সুরক্ষা এবং সেচব্যবস্থার উন্নয়নে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন স্থানীয়দের অন্যতম প্রত্যাশার বিষয়।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর আওতায় প্রায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরশুরামের কর্মসূচি শেষে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে দুপুর দেড়টার দিকে পৌঁছে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এরপর দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাবেন। সেখানে সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত রুফটপ সোলার ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কার্যক্রম উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। পরে ডাকবাংলোয় দুপুরের খাবার ও কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার সম্মিলিত স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় ৯৬২ কিলোওয়াট। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের উদ্যোগকে সরকারি ভবনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের একটি বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি ভবনের ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করার এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায়ও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ফেনীর তিন উপজেলায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাগুলোর উৎপাদন অনলাইনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় এ ধরনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগও রয়েছে।

বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ কর্মসূচিতে সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি সহায়তা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির লক্ষ্য হিসেবে পরিবারকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ একক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন সহায়তা ও প্রণোদনা কার্যক্রমকে আরও কাঠামোবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেনীর অনুষ্ঠানে এসব কর্মসূচির অংশ হিসেবে কার্ড বিতরণ স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সামাজিক সহায়তা কার্যক্রমের দৃশ্যমান একটি দিক হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে কয়েক দিন ধরেই প্রস্তুতি চলছে। সভাস্থল, সড়ক, আশপাশের এলাকা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি স্থাপনাগুলোতে সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। পরশুরামের মুহুরী নদীর তীরবর্তী ঘাটঘর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সভাস্থলে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশে সংস্কার ও মেরামত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ও মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ত্যাগ করবেন। রাতে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফলে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ফেনীর দুটি উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে একই দিনে সফর শেষ করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে যেমন প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে আগ্রহ। বিশেষ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কাজ, নদীতীর সংরক্ষণ, সেচ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলো ফেনীর মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এখন প্রকল্প ও কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত