প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ বার
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলন করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা এবং সফরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব হাসান শিপলু সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এতে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি সফরকেন্দ্রিক সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেওয়া হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও মুখপাত্র উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সফরের কর্মসূচি, বৈঠক, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান এবং সফরের বিভিন্ন আলোচনার বিষয় সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। পরদিন তিনি নিউইয়র্কে পৌঁছান এবং এরপর জাতিসংঘের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। সফরের গুরুত্বপূর্ণ পর্বে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন এবং একাধিক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেন। তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের উন্নয়ন, শান্তি, নিরাপত্তা, মানবিক মূল্যবোধ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন, যেখানে তরুণদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে, নারীরা নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবেন এবং শিশুরা নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে তিনি শান্তি, মানবিকতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয় আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় রয়েছে। বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য থেকে জানা গেছে।

জাতিসংঘ সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ, জলবায়ু ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব আলোচনার বাস্তব অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানদের একত্র করে। ফলে এই সময়টিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হয়। এবারের সফরেও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের নেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সফরকালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। বিনিয়োগ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের সুযোগ সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়গুলো দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো বিষয়গুলোও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এ সংকটের টেকসই সমাধান, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ তুলে ধরে আসছে। নিউইয়র্ক সফরেও এ বিষয়টি বাংলাদেশের আলোচ্যসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ছিল।

জাতিসংঘের মঞ্চে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হওয়ায় অভিযোজন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মতো বিষয় আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়মিতভাবে তুলে ধরে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরেও জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয় আলোচনায় এসেছে।

এদিকে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন। বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব বিষয়ে সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ নিয়েও সফরের বিভিন্ন আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে তাই শুধু সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বিভিন্ন বৈঠকে আলোচিত বিষয় এবং সেসব আলোচনার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মাধ্যমে সফরের বিভিন্ন দিক, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শেষ হওয়ার পর দেশে ফিরে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনকে তাই সফরের সার্বিক কার্যক্রম জনসমক্ষে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে দেশের অবস্থান সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে কী ধরনের তথ্য ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপটে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন দেশের পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন অর্জন ও আলোচনার বিষয় জনসাধারণের সামনে আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত