তিন দফা কমার পর আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৫ বার
তিন দফা কমার পর আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে টানা তিন দফা কমার পর এবার আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। ফলে স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী সাধারণ ক্রেতা, বিয়ের আয়োজন করা পরিবার এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বাজারে নতুন করে বাড়তি দামের চাপ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম, ভ্যাটসহ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এর আগে এই মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। অর্থাৎ নতুন দরে প্রতি ভরিতে দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা।

২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা।

স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার বাজারদরে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে আগের নির্ধারিত দামেই রুপা বিক্রি হবে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।

স্বর্ণের বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি এসেছে টানা তিন দফা দাম কমার পর। এর আগে কয়েক দফায় আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে দাম কমার পর ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা দীর্ঘদিনের সঞ্চয় থেকে স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিরা কম দামের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এবার নতুন করে দাম বাড়ায় সেই স্বস্তিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি পরিস্থিতি, সরবরাহ এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদার মতো বিভিন্ন বিষয় মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবর্তন হলে তার প্রভাব কোনো না কোনো পর্যায়ে দেশের স্বর্ণের বাজারেও দেখা যায়।

স্বর্ণ শুধু অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, অনেক পরিবারের কাছে এটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও সম্পদ সংরক্ষণের একটি মাধ্যম। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় বিয়ে ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে স্বর্ণের ব্যবহার ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে স্বর্ণের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি অনেক পরিবারের বাজেটে পড়ে। বিশেষ করে বিয়ের জন্য একসঙ্গে কয়েক ভরি স্বর্ণ কেনার প্রয়োজন হলে সামান্য মূল্যবৃদ্ধিও মোট খরচে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

একই সঙ্গে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারের ক্রেতাদের আচরণেও পড়তে পারে। কেউ কেউ দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় আগে কিনতে চাইতে পারেন। আবার অনেক ক্রেতা উচ্চমূল্যের কারণে কেনাকাটা পিছিয়ে দিতে পারেন বা কম ওজনের অলংকার বেছে নিতে পারেন। ফলে স্বর্ণের বাজারে দাম বৃদ্ধির পর চাহিদার ধরনেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা থাকে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্যও স্বর্ণের দাম পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উচ্চমূল্যের বাজারে নতুন অলংকার তৈরির খরচ বেড়ে যায় এবং ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি বা পরিবর্তন করে নতুন অলংকার কেনার দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে নগদ অর্থের প্রয়োজন কমিয়ে প্রয়োজনীয় অলংকার কেনার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে স্বর্ণের ঘোষিত মূল্য এবং একজন ক্রেতাকে শেষ পর্যন্ত যে অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। অলংকারের নকশা, মজুরি, কারিগরি খরচ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য ব্যয়ের কারণে মোট মূল্য নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাই ক্রেতাদের স্বর্ণ কেনার সময় শুধু প্রতি ভরির ঘোষিত দাম নয়, অলংকার তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচও বিবেচনা করতে হয়।

বর্তমান নতুন দরে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা হওয়ায় এটি দেশের স্বর্ণবাজারের উচ্চমূল্যের ধারাবাহিকতাকেই তুলে ধরছে। কয়েক দফা মূল্য কমার পর আবার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারের অস্থিরতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্বর্ণের বাজারে দাম একবার বাড়ার পর পরবর্তী সময়ে আবার কমতে পারে কিংবা আরও বাড়তে পারে—এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের জন্য মূল্য পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব অর্থনীতিতেও স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা রয়েছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মুদ্রার ওঠানামা কিংবা আর্থিক বাজারের পরিবর্তনের সময় বিনিয়োগকারীদের একাংশ স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা পরিবর্তিত হয়ে দামেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে নির্দিষ্ট সময়ে স্বর্ণের মূল্য কোন দিকে যাবে, তা একাধিক অর্থনৈতিক ও বাজারভিত্তিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

দেশের বাজারে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এখন ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নির্ধারিত দরের সঙ্গে দোকানে বিক্রয়মূল্য মিলিয়ে দেখা। একই মানের স্বর্ণের ক্ষেত্রে ঘোষিত মূল্য, অলংকারের ওজন এবং অতিরিক্ত খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে কেনাকাটা করলে ক্রেতারা মোট ব্যয়ের হিসাব বুঝতে পারবেন। বিশেষ করে বড় অঙ্কের স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে মূল্য ও অন্যান্য চার্জ সম্পর্কে আগেই নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকায় স্বর্ণ ও রুপার বাজারে একই ধরনের মূল্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। স্বর্ণের চারটি প্রচলিত মানের দাম বাড়লেও রুপার চারটি মানের দাম আগের অবস্থাতেই রয়েছে। ফলে যারা স্বর্ণের পরিবর্তে রুপার অলংকার বা অন্যান্য সামগ্রী কেনার কথা ভাবছেন, তাদের ক্ষেত্রে বর্তমান ঘোষণায় বাড়তি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েনি।

সব মিলিয়ে টানা তিন দফা কমার পর স্বর্ণের বাজারে আবার মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধির পাশাপাশি ২১, ১৮ ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই মূল্য কতদিন বহাল থাকবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্তের ওপর। আপাতত স্বর্ণ কিনতে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষের জন্য নতুন দরের সঙ্গে বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি হিসাব করেই কেনাকাটার পরিকল্পনা করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত