কানাডায় ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮৮ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কানাডার রাজধানী অটোয়ার উপশহর কানাটায় এক মুসলিম তরুণির ওপর গণপরিবহনে বিনা উসকানিতে হামলার ঘটনায় সারা দেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ঘটনাটিকে ‘হেট ক্রাইম’ হিসেবে অভিহিত করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ঘৃণা বা সহিংসতার কোনো স্থান কানাডায় নেই এবং এ ধরনের অপরাধীদের অবশ্যই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় কানাটার স্থানীয় একটি বাসে যাত্রী হিসেবে থাকা এক তরুণিকে হিজাব পরার কারণে টার্গেট করে আক্রমণ চালানো হয়। হামলাকারী প্রথমে তাকে ভয়ভীতি ও অপমানজনক কথাবার্তা বলে হুমকি দেয় এবং পরে শারীরিকভাবে আঘাত করে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “আমাদের শহর বা দেশে ঘৃণা ও সহিংসতার কোনো স্থান নেই। কেউ কর্মক্ষেত্রে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন—এটি আমরা মেনে নিতে পারি না। অপরাধীকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, আর আমি ভুক্তভোগীর পাশে আছি।”

ঘটনার পর অটোয়া পুলিশ বিভাগ জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বয়স আনুমানিক বিশ থেকে ত্রিশ বছরের মধ্যে, উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি, গড়ন পাতলা এবং মুখে দাড়ি রয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে পুলিশের আহ্বান—যে কেউ যদি হামলার সময় উপস্থিত থেকে কিছু দেখে থাকেন, যেন অবিলম্বে তথ্য দেন।

স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা আয়েশা শেরাজি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি শুধু একজন তরুণির ওপর হামলা নয়, এটি আমাদের পুরো সম্প্রদায়ের প্রতি ভয় ও ঘৃণার বার্তা বহন করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন এবং ওই নারীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। আশা করি, পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।”

ঘটনার পর কানাটা মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন সামাজিক মাধ্যমে এক সতর্কবার্তায় জানায়, হিজাব পরিহিতা নারীসহ সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে গণপরিবহনে ভ্রমণের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কেউ যদি হয়রানি বা হামলার শিকার হন বা এ ধরনের ঘটনার সাক্ষী হন, তবে যেন অবিলম্বে পুলিশকে জানান।

কানাটার মেয়র মার্ক সাটক্লিফও এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে নিজের সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “আমাদের অবশ্যই ইসলামবিদ্বেষ এবং সব ধরণের ঘৃণার বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়াতে হবে। গণপরিবহনে ভ্রমণ করার সময় প্রত্যেকেরই নিরাপদ থাকার অধিকার রয়েছে।”

ঘটনাটি কানাডার বহুসংস্কৃতিবাদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার প্রতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জাতিগত সমতার জন্য আইনগত কাঠামো শক্তিশালী, তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামবিদ্বেষী হামলার হার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। বিশেষ করে হিজাব পরিহিতা মুসলিম নারীরা এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন, যা সমাজে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও গভীর করছে।

এই ঘটনার তদন্ত চলমান থাকলেও, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের একাংশ বলছেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই হবে না—বরং ঘৃণামূলক মনোভাব ও পক্ষপাতমূলক আচরণের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষামূলক ও সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। নইলে কানাডার মতো সহনশীলতার উদাহরণ হওয়া একটি দেশও ক্রমে বিভাজন ও ভয়ের শিকার হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত