পৃথিবীর সবচেয়ে দয়ালু বিচারক’ ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও আর নেই

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭১ বার
পৃথিবীর সবচেয়ে দয়ালু বিচারক’ ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও আর নেই

প্রকাশ: ২১ অগাস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ইতিহাসে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকা সাবেক বিচারক ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও আর নেই। প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষ তাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন।

ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও শুধু একজন বিচারকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন দয়ার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। আদালতের কঠিন পরিবেশকেও তিনি রূপ দিতেন মানবিকতার উষ্ণতায়। অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত মানুষগুলোকে তিনি দেখতেন শুধু আইনভঙ্গকারী হিসেবে নয়, বরং সমাজ ও জীবনের নানা পরিস্থিতিতে আটকে পড়া মানুষ হিসেবেও। এ কারণেই তাকে বলা হতো ‘পৃথিবীর সবচেয়ে দয়ালু বিচারক’। মৃত্যুর আগের দিনও সামাজিক মাধ্যমে তিনি নিজের শারীরিক অবস্থা জানিয়ে সবার কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছিলেন।

১৯৮৫ সালে রোড আইল্যান্ডে পৌর আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব নেন ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও। সেখানেই প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। বিচারকের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো মানুষদের প্রতি তার মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী আচরণ তাকে সাধারণ মানুষের কাছে অনন্য মর্যাদা এনে দেয়। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, সারা বিশ্বেই তিনি হয়ে ওঠেন স্নেহ, সহমর্মিতা আর ন্যায়বিচারের এক প্রতীক।

তার জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় যখন তিনি ‘কট ইন প্রভিন্স’ নামে টেলিভিশন শোতে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রচারিত এ অনুষ্ঠান তাকে পৌঁছে দেয় কোটি দর্শকের হৃদয়ে। নানা ধরনের ছোটখাটো অপরাধের মামলা বিচার করতে গিয়ে তিনি যেভাবে হাসি, রসবোধ ও মানবিকতার সঙ্গে আইনের প্রয়োগ করেছেন, তা সাধারণ মানুষকে মুগ্ধ করেছে। এই অনুষ্ঠান এমি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য মনোনীত হয়েছিল, যা তার জনপ্রিয়তাকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিওর জন্ম ১৯৩৬ সালের ২৩ নভেম্বর প্রভিডেন্স, রোড আইল্যান্ডে। সেখানেই তিনি বড় হয়েছেন এবং জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন। প্রায় ৫০ বছর পর নিজ শহরের পৌর আদালতের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি, যা ছিল তার জন্য এক গর্বের অর্জন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি হাজারও মামলার রায় দিয়েছেন, কিন্তু প্রতিটি রায়ে ছিল মানবিকতার ছোঁয়া। আদালতের বেঞ্চে বসা একজন বিচারক কীভাবে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিতে পারেন—ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও ছিলেন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

তার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও বিচার অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখেছেন, “তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, আইনের পাশাপাশি মানুষকেও দেখতে হয়।”

ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিওর মৃত্যু নিঃসন্দেহে এক যুগের অবসান। তবে তার রেখে যাওয়া দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষাই তাকে জীবিত রাখবে কোটি মানুষের হৃদয়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত