প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা দীর্ঘদিন পর আবারো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আলোচনায় উঠে এসেছেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজকীয় অবমাননার মামলায় শুক্রবার আদালত রায় দিয়েছে, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তাকে খালাস দেওয়া হলো। ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কেটে গেছে।
থাইল্যান্ডে রাজপরিবার ও রাজা মহা ভাজিরালংকর্নকে নিয়ে কোনো সমালোচনা বা নেতিবাচক বক্তব্য আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। কঠোর এই আইন ভঙ্গের অভিযোগেই থাকসিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত। তবে বিচারক স্পষ্ট করে জানান, অভিযোগের পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি, তাই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তি দেওয়া হলো।
আদালতের রায় ঘোষণার পর থাকসিনের আইনজীবী উইনিয়াত চ্যাতমন্ত্রি সাংবাদিকদের বলেন, “আদালত আমাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন।” আদালত থেকে বের হওয়ার সময় থাকসিনকে হাসিমুখে দেখা যায়, তবে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
থাকসিন সিনাওয়াত্রা ২০০০ সালের শুরুর দিকে দুবার থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর স্বেচ্ছা নির্বাসনে কাটান। অবশেষে ২০২৩ সালের আগস্টে তিনি দেশে ফেরেন। তবে ফেরার পরই দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মামলায় তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে জেলখানায় না গিয়ে তিনি পুলিশ হাসপাতালের একটি বিশেষ কক্ষে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে নতুন করে দায়ের হওয়া রাজকীয় অবমাননার মামলাটি থাইল্যান্ডে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। দেশটির রাজনীতি, সমাজ এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তবে আদালতের এই রায়ে অন্তত আপাতত থাকসিনের জন্য বড় একটি বাধা দূর হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রায়ের ফলে থাইল্যান্ডের রাজনীতি নতুন মোড় নিতে পারে, কারণ এখন প্রশ্ন উঠছে তিনি কি আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন নাকি প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবেন।
থাইল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে রাজপরিবারের প্রতি আনুগত্য আইন দিয়ে রক্ষা করা হয়। সমালোচকদের মতে, এই আইনটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। থাকসিনের মতো প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা সেটাই প্রমাণ করে। তবে আদালতের সর্বশেষ রায় দেশটির বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
৭৬ বছর বয়সী থাকসিনের খালাস প্রাপ্তি তার রাজনৈতিক জীবনকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। আগামী দিনে তিনি কী ভূমিকা পালন করবেন, তা নিয়েই এখন নজর দেশটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মহলের।