হামাস শর্ত না মানলে গাজা সিটি ধ্বংসের হুমকি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৩ বার

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছেন, হামাস যদি অস্ত্র সমর্পণ ও সকল জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি না হয়, তাহলে গাজা সিটি ধ্বংস করা হবে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ সত্ত্বেও ইসরাইল পুরো গাজা দখল করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে উদ্বেগ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির ৬০ দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করে হামাস। এই প্রস্তাব অনুযায়ী বাকি জিম্মিদের অর্ধেক মুক্তি দেওয়া হবে। তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য শর্তে বাকি সকল জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া এবং গাজায় যুদ্ধের অবসানের জন্য নতুন আলোচনা শুরু হবে। ২২ মাস ধরে চলা সংঘর্ষে ৫০ জন জিম্মির মধ্যে মাত্র ২০ জনই বেঁচে আছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ইসরাইলে গাজা বিভাগের সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের সকল জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অবিলম্বে আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ এর আগেই তিনি হামাসকে সরাসরি সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের অবসান না হলে শক্তভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ আরও স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘শিগগিরই গাজায় হামাসের মাথার উপর নরকের দরজা খুলে যাবে, যতক্ষণ না তারা যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইসরাইলের শর্ত অনুযায়ী সকল জিম্মিদের মুক্তি এবং নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়।’ কাৎজ আরও বলেন, ‘যদি তারা একমত না হয়, তাহলে হামাসের রাজধানী গাজা সিটি আরেকটি রাফা বা বেইত হানুন হয়ে যাবে।’

ইসরাইলি সামরিক অভিযানের পর উভয় শহরই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা সেখানকার সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ও জীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, চলমান সংঘাত এবং নতুন ধ্বংসাত্মক হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা শুধুমাত্র দুই পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে গাজার সাধারণ জনগণ মারাত্মক মানবিক সংকটে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হামাস ও ইসরাইল উভয় পক্ষকেই স্থায়ী শান্তি আলোচনা শুরু করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে, তবে সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এই যুদ্ধবিরতি ও হুঁশিয়ারি বিষয়ক ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আন্তর্জাতিক মানবিক চ্যালেঞ্জকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত